Tuesday, May 10, 2016

লাল গানে নীল সুর

আগে দেহের প্রাচীর ভাঙো, দেখবে গো সাঁই, মনের সেতু আপনি জোড়া লাগবে।/ কামনার ইটের পরে ইট সাজিয়ে গড়া দেহ, ইট খসালেই তুমি-আমি নাহি কেহ।/ থাকে কেবল সেই জনা।

তারে কেউবা ভজো আল্লা নামে, কেউবা মজো কৃষ্ণ ভাবে; / খেপী কয়, নামে কী আসে যায়,
তার প্রেমে ডুব দেয় সবজনা।/ তুমি-আমি সবজনা।

ডুব দিলে সাঁই একেবারে, আল্লা হরি মিলতে পারে।/ না ডুবিলে কেবল দেহ পড়ে রয়, মন তো মেলে না।

একবার ডুব দিয়ে দেখ গো সাঁই, নাহলে মন তো মেলে না।


Monday, May 9, 2016

মনের মানুষ

মেয়ে বায়না ধরেছে মনের মানুষ চাই তার। মাটি ছেনে ছেনে শিল্পী তাকে গড়তে বসল। হাত-পা-মাথা-শরীর কেমন দিব্যি সুন্দর হয়। কেবল বাকি থাকে চক্ষুদুটি। চোখেই তো মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠা। চক্ষুদুটি বাঙময় হলে ফুটে ওঠে মূর্তির ভাব, তার মনের ভাষা। মূর্তির শরীরে রঙের পোঁচ পড়ে, রঙ শুকিয়ে গেলে মেয়ের পছন্দের রঙিন কাপড় যত্ন করে পরিয়ে দেয় শিল্পী।

সব শেষ হলে মেয়ে জিজ্ঞাসা করে, আর চোখ দুটি? তা করবে না? শিল্পী বলে, তোমার মনের মানুষের চোখ আমি কী করে আঁকি বলতো? সে তো তাহলে আমার মনের মতন হবে। তোমার মনের মতন তো আমি বানাতে পারব না। মেয়ে অবাক হয়ে বলে, বা রে, তা কী হয়, আমি তো তোমার মতো আঁকতে পারব না, ট্যাঁরা হবে না ব্যাঁকা হবে, কে জানে! শিল্পী বলে, তা যাই হোক, তাতেই সে তোমার মনের মানুষ তো হবে। মেয়ে রাগ করে বলে, বিচ্ছিরি হলে আমি কিছুতেই সইতে পারব না। শিল্পী শেষে হাল ছেড়ে দিয়ে বলল, বেশ, আমার মনের মতন করে এঁকে দিচ্ছি, তখন যেন বোলো না যে সুন্দর হয়নি।

শিল্পী তো তার সব মনপ্রাণ দিয়ে মূর্তির চোখ আঁকল খুব ধৈর্য ধরে, যত্ন করে। শেষ হলে মেয়ে বহুক্ষণ দেখলে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে, এপাশ থেকে, ওপাশ থেকে। শিল্পী জানতে চাইল, কোনোখানটা হয়নি বল, মুছে ঠিক করে দিই। মেয়ে বলল, হয়েছে, সবটুকুই হয়েছে, এর চাইতে ভালো আর কিছুতেই হতো না। বলে চুপ করে রইল। শিল্পী বলল, তবে, পছন্দ হয়নি? মেয়ে মাথা নেড়ে বলল, খুব পছন্দ হয়েছে, কেবল...। শিল্পী বলল, কেবল কী? মেয়ে বলল, কেবল আমার মনের মানুষটি হয়নি।


Sunday, May 8, 2016

তুমি হে

তোমায় ভুলতে দিতে নাইকো আমার ভয়... গান-কবিতার ঘোরে শব্দটা মাথার মধ্যে ফিরে ফিরে আসে বৃষ্টিপাতের মতো, রবি ঠাকুরের গানের মতো, তোমার মতোই ফিরে ফিরে আসে। বহুকাল আগে বিদ্যাপতি গান বেঁধেছিলেন, মাধব বহুত মিনতি করি তোয়..., রবি ঠাকুর সেই সুর মাথায় রেখে ভানুসিংহের পদাবলীতে গাইলেন, তুঁহু নহি বিসরবি, তুঁহু নহি ছোড়বি...। ঈশ্বর আর প্রেমিক মিলে গেলেন হৃদয়ে।

অথচ তুমি চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকলে আমার গানের ওপারে। আর আমি ইহজীবনে শুধু ডাক দিয়েই গেলাম, বাহির হয়ে এস তুমি যে আছ অন্তরে...

কোনও কোনও পাঠক বা শ্রোতা প্রশ্ন করেন, জানতে চান, কে তুমি? নিজের গভীরে ডুবে উত্তর খুঁজে পাই না। কলম হাতে লিখতে বসে হয়ত এমন প্রশ্নের সম্মুখীন সকলেই হয়েছেন। অন্যের কাছে অথবা নিজের কাছেই কে তুমি আমারে ডাক, অলখে লুকায়ে থাক, ফিরে ফিরে চাই, দেখিতে না পাই...।

শহীদ কাদরির কবিতায় সুর বসিয়ে সুমন একদিন গেয়ে উঠেছিলেন, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা...সেই সুর মাথার মধ্যে ধ্বনি-প্রতিধ্বনি হতে হতে আমরাও যেন মাথা নত করেছি সেই প্রিয়তমার সম্মুখে, বলতে চেয়েছি, ভয় নেই, এমন দিন এনে দেব, বোমারু জঙ্গি যত বিমানের ঝাঁক থেকে বোমা নয় গুলি নয়...নাহ্‌, মুখ ফুটে বলতে পারিনি কোনদিনও।

রবি ঠাকুর একবার বলছেন, চিরবন্ধু, চিরনির্ভর, চিরশান্তি তুমি হে প্রভু..., আবার পর মুহূর্তেই দাবি করে বসছেন, তাই তোমার আনন্দ আমার পর তুমি তাই এসেছ নীচে, আমায় নইলে ত্রিভুবনেশ্বর তোমার প্রেম হত যে মিছে...।

আর তাই সারাজীবন সেই তোমাকেই খুঁজে ফিরেছি তোমায় আমায় মিলন হবে বলে আলোয় আকাশ ভরা, তোমায় আমায় মিলন হবে বলে ফুল্ল শ্যামল ধরা...। এই ফুল্ল শ্যামল ধরাতেই তোমাকে খুঁজে ফিরেছি আলোয় ভরা আকাশের নীচে, পার্থিবে অপার্থিব তোমায়। আমি খুঁজতেই থাকি আমার কলমে, বইয়ের পাতায়, চেনা অচেনা মানুষের মাঝে, সেই তোমায়।

যে তুমি আমার বন্ধু হে...।

রবীন্দ্রজয়ন্তী!

সকাল সাড়ে আটটায় সময়। সোয়া আটটা থেকে গিয়ে বসে আছি। শুরুতেই রিশেপশনে জানালো আরেকজনের চলছে একটু অপেক্ষা করুন। বলি, তাহলে ফাস্টিং-এর ব্লাডটা নিয়ে নিন, একটু চা-বিস্কুট খেয়ে নিই। ব্লাড দিয়ে সামনের দোকান থেকে চা খেয়ে ফিরে আসি। তারপরেও অপেক্ষা করতেই থাকি। অপেক্ষা করতে করতে মোবাইলের নোটে আস্ত একটা গদ্যই লেখা হয়ে যায়। এবং খিদেতে কাহিল। মানে সকাল হলেই আমার বড্ড খিদে পায় কিনা, আর তখন তো প্রায় দশটা বাজে। খিদের আর দোষ কি? উঠে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি, কত দেরি? শুনি এখনও অনেক দেরি আছে। বলি, তাহলে একটু খেয়ে আসছি। বেরিয়ে আবার চায়ের দোকানে যাই। ডিম-পাঁউরুটির অর্ডার দিই। তারপর প্লেটটা হাতে নিয়ে যেই না এক কামড় দিয়েছি, অমনি ফোন, আপনার টার্ন এসে গেছে। যাব্বাবা, আমার মুখ ভর্তি পাঁউরুটি, টার্ন এলেই হল? কোনওমতে জল দিয়ে কোঁত কোঁত করে গিলে ঘুগনীর দিকে সতৃষ্ণ নয়নে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ডায়গনোস্টিক সেন্টারে ফিরে এসে শুনি আরেকজনের এম আর আই শুরু হয়েছে। আরও মাত্র পঁচিশ মিনিট বসতে হবে। তা বসি, বসেই থাকি। ছোটবেলা থেকে ডাক্তারের চেম্বার আর ডায়গনোস্টিক সেন্টারে গিয়ে গিয়ে এসব বিষয়ে আমার ধৈর্য অনন্ত। কিন্তু আধ ঘন্টা বাদে যখন আমার পরে আসা আরও একজনকে ভিতরে নিয়ে যাচ্ছে দেখি, অসীম ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। রিশেপশনে গিয়ে বলি, দুঘন্টার ওপর বসে আছি, আর কতক্ষণ? আমার মেজাজ দেখে সে ভেতরে পাঠায়। ভেতরে আরেক মহিলা মধুর হেসে আমাকে ড্রেস চেঞ্জ করে দু মিনিট বসতে বলে। ইতিমধ্যে একজন বেরিয়ে এলে, আরেকজনকে ঢোকায়। আমি আপত্তি জানালে আবারও মধুর হেসে বলে, জাস্ট দুমিনিট। অপেক্ষায় থাকি, দু মিনিট কতক্ষণে শেষ হয়। জিজ্ঞাসা করি, এস আই জয়েন্ট কোথায়? বলে, কোমরে। মনে মনে ভাবি কোমরে তো গুচ্ছের জয়েন্ট আছে, সেই কবে ফিজিওলজি পড়েছিলাম, ভুলে মেরে দিয়েছি। তবে আর কথা বাড়াই না। আবারও মধুর হেসে সে বলে, আপনার ফোনটায় পছন্দের গান বেছে দিন, হেডফোনে লাগিয়ে দেব। (মনে মনে দাঁত কিড়মিড় করি, আমি কি ছেলেমানুষ যে ভোলাচ্ছ?) কানে হেডফোন দিয়ে গান শোনা আমার একেবারে পোষায় না, কিন্তু এবারেও কথা বাড়াই না।

অতঃপর সেই দু মিনিট শেষ হলে ঢুকে পড়ি। এম আর আই-এর পূর্ব অভিজ্ঞতায় জানি অত ছোট জায়গায় দম আটকানোর মতো একটা কষ্ট হয় বটে, তবে চোখ বুজে থাকলে সে ব্যাপারটা ম্যানেজ হয়ে যায়। কিন্তু ভয়ানক আওয়াজের কথাটা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম। যাইহোক শুয়ে পড়ে কানে বড় একটা হেডফোন লাগালে মাথাটা কিছুতেই বেডের ঠিক জায়গায় খাপে খাপে ঢুকতে চায়না। তো সেই মধুর মেয়েটি এসে কোনওমতে ম্যানেজ করে লাগিয়ে দিয়ে মাথাটা চেপেচুপে ঢুকিয়ে দেয়। তার ওপর দিয়ে আবার একটা গোল ধরণের চাপা দিয়ে দেয় যাতে আমি আর মাথা তুলতে না পারি। হেডফোনও আমার দুকানে বেশ চেপেই বসে। এবং তা দিয়ে আবার মধুর কন্ঠস্বর ভেসে আসে, ভয় পাবেন না, আমি আপনার সঙ্গেই আছি। (মনে মনে ভাবি, আ মোলো যা, খামোখা ভয় পেতে যাব কেন!)

ওদিকে তো হেমন্ত বেজে ওঠেন, কি গাবো আমি কি শুনাব... ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ...ঘড়ড়ড়...বুঝি আরম্ভ হয়েছে। আহা, ভেবেছিলুম রবীন্দ্রজয়ন্তী, কানে নাহয় রবীন্দ্রনাথই বাজুক। বাজছেন তিনি হয়তো অন্তরে, মরণেরও মুখে রেখে... ঘড়ড়ড়...। মনে পড়ল মেট্রোতে যখন রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজতো তখন অনেকটা এভাবেই শুনতে হতো। যাইহোক নিজেকে আশ্বস্ত করি, রবি ঠাকুর বাজছেন তো ঠিক, সে আমি শুনতে পাই আর না পাই...। ওদিকে কানে মধ্যে ক্রমশ চেপে বসছে হেডফোন। কানের ব্যথা ঘাড়ে আর মাথায় ছড়িয়ে পড়ছে। ক্রমশ যে করেই হোক হেমন্তের হাত থেকে মুক্তি পেতে আমি বদ্ধ পরিকর হলাম। মাথা সামান্য এগোনো-পেছোনো...ঘ্যাঁগা ঘ্যাঁগা ঘ্যাঁগা...অবিকল মনে হচ্ছে মাথার মধ্যে কে বাবা, বাবা...’ বলে যাচ্ছে। যদিও আমার অবস্থা তখন বাবারে মারে ছেড়ে দে রে। এম আর আই নিয়ে আমার আর মাথা ব্যথা নেই। সমস্ত ব্যথা কেন্দ্রীভূত হয়ে দুকানের হেডফোনে। কিছুতেই ম্যানেজ করা যাচ্ছে না। ওদিকে প্রবল আওয়াজের ফাঁকেই হেমন্ত বেজে উঠছেন, অচেনাকে ভয় কি আমার ওরে...। হাত দুটোকে স্লো মোশানে ওপরে ওঠাচ্ছিলাম যাতে কেউ টের না পায়, কিন্তু ওঠাতে না ওঠাতেই দেওয়ালে গেল আটকে। হেমন্ত, ঘ্যাঁ কোঁ কো সব পেরিয়ে এবারে জোরে চেঁচাই সেই মধুর উদ্দেশ্যে হেডফোনে কানে লাগছে ভীষণ, খুব কষ্ট হচ্ছে...। হেমন্তকে পজ করে মধুর কন্ঠস্বর ভেসে আসে, আর মাত্র সাতমিনিট, একটু কষ্ট করুন। অতএব একটু কষ্ট করে সেই সাত মিনিট-এর অপেক্ষা করি। হেমন্ত একেবারে কানে কানেই জানান,হায় গো, ব্যথায় কথা যায় ডুবে যায় যায় গো... গানের বাকি অংশ আবারও ডুবে যায় আওয়াজে - ঘড়ড়ড়...। এবার মাথাটা ওপরের দিকে তোলার চেষ্টা করি, যদি দুকানের থেকে দৈবাৎ খুলে আসে হেডফোন। সামান্য তুলতে না তুলতেই আটকে যায়, মনে পড়ে ওপর দিয়ে আরও একটা তো পরানো আছে। ওভাবেই মাথাটা ঝুলিয়ে রাখি...ঘাড় দিয়ে ব্যথা উঠে মাথা যন্ত্রনায় ছিঁড়ে যাচ্ছে... সত্য মরিয়া গিয়াছে পঞ্জাব মেলের সঙ্গে দার্জিলিং মেলের কলিশন রক্তারক্তি -পিসীমা –’ খুব বিপদে পড়লে রবি ঠাকুরের পরেই হয় শিবরাম নয় পরশুরামকে মনে পড়ে আমার। ওই আর কী রাম নাম জপা। ঘড় ঘড় থেমে যায় আচমকাই আর সুযোগবুঝে হেমন্তও গেয়ে ওঠেন, এ পথে আমি যে গেছি বারবার... আমাকে টেনে বার করে আনে। আমিও আর্তনাদ করে উঠি এবার, হেডফোন, হেডফোন খুলুন, তাড়াতাড়ি...।

সব গুছিয়ে বেরোনোর আগে মোবাইল নিতে গেলে আবার মধুর হেসে জিজ্ঞাসা করে, আপনার কি দুটো পয়েন্টেই ব্যথা?' বলি, সব, সব জায়গায় ব্যথা যেখানেই চান। আমার তখনও কান-মাথা সব ঝনঝন করছে...


হেডফোন তো কখন খোলা হয়ে গেছে, তবু হেমন্ত যেন মাথার মধ্যে বেজে যান,বরষ ফুরায়ে যাবে, ভুলে যাবে, ভুলে যাবে, ভুলে যাবে জানি...। ভাবি, ভাগ্যিস!

Wednesday, May 4, 2016

পূর্বাভাস

আজ বৃষ্টি পড়বে জানতাম।

অনেক দহন শেষে এভাবেই নেমে আসে
ঘন মেঘের অভিমান কয়েক ফোঁটা অশ্রুপাতে।

পূর্বাভাস ছিল না, তবুও...

একেকদিন যেমন কান্নাভেজা ঠাণ্ডা হাওয়া
তোমার মতোই ছুঁয়ে দিয়ে যায় শুষ্ক কপাল।

ভালোবাসা

ভালোবাসা দীর্ঘ কবিতার মতো
লিখতে লিখতে নিজেকে নিংড়ে নেওয়া,
তারপর আবার কালিতে কলম ডোবানো।
ভয় করে, কখনও কলম তুলে নিলে নিলে
এ কাহিনি হয়তো অসমাপ্তই রয়ে যাবে।
খুব ক্লান্ত হয়ে গেলেও শব্দ, শব্দ
এবং আরও শব্দ জুড়তে জুড়তে

অন্তহীন লিখেই চলি...।

কবিতার জন্য

কবিতার জন্য একটা যুদ্ধ করলে কেমন হয় বলতো?

শব্দের তরবারি, হরফের তীব্র গোলাবারুদের আওয়াজ, কলমের বিষাক্ত তীর...

মানুষের লোভ, ঘৃণা আর নির্মমতার কাছে অনেকদিন ধরে হারতে হারতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে কবিতা ও প্রেমের। এবার ঘুরে দাঁড়ানো যাক, কি বলো?

চলো ওদের জন্য একবার অস্ত্র ধরি কবিতা অথবা শান্তির জন্য।
আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্যও, যাদের একটা সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম।

একদিন তো মরবই, শেষ লড়াইটা নাহয় লড়েই নিই।

জিতে গেলে আবার স্বপ্ন দেখতে বসব হয়তো...
হেরে গেলেও কোনও আর দুঃখ থাকবে না।

শেষ রক্ত, ঘাম, অশ্রুপাত শুধু কবিতার জন্য...

কবিতা অথবা তোমার জন্য নিঃশেষ হোক এ জীবন।