Saturday, May 21, 2016

টুকরো ভাবনা

রাজনীতি কিছু বুঝিনা। যা মনে হয় তা লিখি। তাই সব কথা সর্বজনের ভালোলাগবেনা বা পলিটিকালি কারেক্ট হবেনা সেটাই স্বাভাবিক। ইন্টেলেকচুয়াল নই। একেবারেই সাধারণ মানুষ। যা কিছু লিখি, অভিজ্ঞতা থেকে যা আহরণ করেছি তার থেকে লিখি। যা কিছু লিখি, যা শিক্ষা পেয়ে বড় হয়েছি তার থেকেই লিখি।

চিরকাল দেখে এসেছি মিথ্যাকে মা খুব ঘৃণা করত। আমিও করি। আরও যখন দেখি মিথ্যার ওপর ভিত্তি করেই যাবতীয় কিছু চলছে তখন যারপরনাই বিরক্ত এবং অসহায় লাগে। আমাদের একমাত্র সন্তান সেও একটি ডাঁহা সত্যবাদী। আর সেইজন্যই বন্ধুদের কাছে অনেকসময় মিথ্যেবাদী আখ্যা পায় আর বাড়ি এসে কান্নাকাটি করে। ওকে বলি, এখন মিথ্যে ব্যাপারটাই এত সহজ আর স্বাভাবিক যে তুই যখন সত্যি বলছিস কেউ সেটা বিশ্বাস করতে পারেনা। তারা ওভাবেই বড় হয়েছে, ওদের দোষ নেই। তুই যদি সত্যবাদী থাকতে চাস জীবনে অনেক ঘা খেতে হবে, সেভাবেই মনটাকে তৈরি কর এখন থেকে। একদিন আমাদের দুজনের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল যে, অপ্রিয় সত্য বলা উচিত না মিথ্যে। এবিষয়ে ও দেখলাম আমার সঙ্গে একমত। অপ্রিয় হলেও সত্য বলব, মিথ্যে বলব না। আমার মনে হয়, অপ্রিয় বলে আমি যদি কারোর কাছে সত্য গোপন করি আর সে যদি অন্য কারোর কাছ থেকে সেটা শোনে তাহলে সেটা তার কাছে আরও বেশিই আঘাতের হবে। তাই অপ্রিয় হলেও সত্য বলা উচিত।

তবে যেমন আদর্শ নিয়ে বাবা-মা বড় করেছিলেন, তেমন আদর্শ কিছু আর আজ খুঁজে পাইনা, তাই সে শিক্ষা দিতেও যাইনা। যুগটা স্বার্থপরের, যুগটা আত্মকেন্দ্রিকতার। যদি অন্য কিছু হও তবে পদে পদে আঘাত খাবে। এইটুকু সাবধান শুধু বারবার করি। এছাড়া আর কী বা করার আছে? ভালো হতে না বলতে পারি, খারাপ হতেও তো বলতে পারিনা একটা আপাদমস্তক ভালোমানুষকে। কেবল সাবধানটুকুই করতে পারি যে, অনেক আঘাত খাবি সেইমতো মনকে প্রস্তুত করে রাখ। কিন্তু তারপরেও সবটুকু পারে না। সেটাই তো স্বাভাবিক। সতেরো বছরে আর কতটুকু বড় হয় মানুষ? কিন্তু পরিস্থিতি এমনই যে হয়ে যেতে হয়।

নিজের জীবনে একটা জিনিস বুঝেছি, শিক্ষাটা যেদিন ভাত ডাল খাওয়ার মতো জরুরি করা যাবে, একমাত্র সেদিন কোনও পরিবর্তন সম্ভব। যারা পরিবর্তন বলতে অন্য কিছু বোঝেন এবং শিক্ষিতদের গাল দেন, আমার তাঁদের কিছু বলার নেই। তাঁরা নিজেরাই শিক্ষিত নন, এবং সেইজন্য নিজেদের আমজনতার সঙ্গে একাসনে বসিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। আমজনতার সঙ্গে একাসনে বসা তো খুব ভালো কথা। তবে তাঁদের শিক্ষিত করে একাসনে বসাই ভালো নয় কি? নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। বাবা বলতেন, তোদের আর কিছুই দিয়ে যেতে পারলাম না শিক্ষা ছাড়া। কথাটা একেবারে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। পড়াশোনাটা ইচ্ছেমতো করতে পারিনি ঠিকই, কিন্তু ভাগ্যিস,  শিক্ষাটা পেয়েছিলাম। এই শিক্ষাটা জরুরি। একটা সময় বাঙালির মধ্যে এই শিক্ষাটাই মূলধন ছিল। গ্রামের সাধারণ মানুষের ভেতর থেকেই উঠে আসতেন ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ত্বেরা। ঊনবিংশ শতক নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে আমার এ কথাই মনে হয়েছে। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে নম্র করে, ভদ্র করে।

নিজে সরকারি শিক্ষায় বড় হয়ে বুঝেছি সে শিক্ষা অন্তঃসারশূন্য। তাই মেয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষা মাধ্যমের কাছ থেকে শিক্ষা কেনা ছাড়া অন্য উপায় দেখিনি। আর্থিক কারণে খুব ছোটবেলায় ওকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে দিতে পারিনি। একটু বড় হওয়ার পর থেকে খুব সাধারণ মানের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলেই পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যে তিনটি বোর্ডের মাধ্যমে স্কুলশিক্ষা হয় তারমধ্যে সবথেকে কঠিন মনে হয়েছে আই সি এস সি-কে। তুলনায় সি বি এস সি এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডের সিলেবাস অনেক কম এবং সহজ। তবে আই সি এস সি বোর্ডে তুমুল ফাঁকিবাজ ছেলেটিও বাধ্য হয়ে যেটুকু জানে, তা অন্য বোর্ডের খুব মনযোগী ছাত্রটিও হয়ত জানেনা। হয়ত বলার অর্থ অনেকেই সিলেবাসের বাইরেও প্রচুর পড়াশোনা করে। সে তো জানবেই। আমার মেয়ের যেমন পড়াশোনা একেবারেই ভালোলাগে না। কিন্তু অধিকতর সহজ সি বি এস সি বোর্ডে যেতে সে কিছুতেই রাজি হয়নি ইলেভেনে ওদের নাকি সেক্সপিয়ার নেই। সেক্সপিয়ার না থাকলে আর ইংরেজি পড়ে লাভ কি? আমাদের সময় ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডে নম্বরই উঠত না। সেইসময়ে কলকাতার স্কুলগুলিই মূলতঃ প্রথম দিককার স্থানগুলো দখল করত। হঠাৎ রাতারাতি যেন চিত্রটা বদলে গেল। মফঃস্বল থেকেই অধিকাংশ ভালো রেজাল্ট এবং ঝুড়ি ঝুড়ি নম্বর! কিন্তু তারপরে তাদের আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না। আসলে শিক্ষা সবসময়েই রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সেটা আমাদের কেরালা রাজ্য বা প্রতিবেশি ছোট্ট দেশ ভুটানকে দেখলে বোঝা যায়। 

কিন্তু শিক্ষায় যখন রাজনীতির রঙ লাগে তখন তার চেয়ে খারাপ আর কিছু হয় না। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ পশ্চিমবঙ্গ। আগামী দিনে একথা আরওই বোঝা যাবে। আর এর শিকার হয় জেনারেশনের পর জেনারেশন সাধারণ মানুষ। তৈরি হয় একটি সম্পূর্ণ অশিক্ষিত জাতি। এতটাই অশিক্ষিত যে শিক্ষার অভাব তার মনে লজ্জা নয়, গর্ব তৈরি করে। শিক্ষার অভাব তাকে ঈর্ষায় নীল করে দেয় শিক্ষিতদের প্রতি। এই অশিক্ষাই জন্ম দেয় মিথ্যা, স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, ধর্মান্ধতার মতো বৈশিষ্ট্যগুলির। আর একবার অশিক্ষা মজ্জায় ঢুকে গেলে তাকে শিক্ষিত করা খুব কঠিন। শিক্ষাকে গ্রহণ করার মতো মানসিকতা আর থাকে না। শিক্ষা তখন তার কাছে একটি বর্জনীয় পদার্থ। আর এরই সুযোগ নেয় আবার রাজনীতি। এরা যত বেশি জানে, ততো কম মানে। এটা বড় সত্যি কথা। অশিক্ষিতকে সহজে বোঝানো যায়, সহজে ভোলানো যায়, সহজে অধীনত করা যায়। শিক্ষা বড় শক্ত জিনিস। হজম না করতে পারলেই বদহজম হয়ে যায়। নিজেকে শিক্ষিত বলে দাবী করে যেসব লেখাপড়া জানা অশিক্ষিতেরা তারা আরও ভয়ঙ্কর সমাজের পক্ষে।


ভেবে দেখেছি রাজনীতি বড় বিশ্রী ব্যাপার। ওর ধারেকাছে আমার না ঘেঁষাই ভালো। বুঝিও না ঠিক ওটা খায় না মাথায় দেয়। আমি বরং ঊনবিংশ শতকেই ফিরি। সেই সময়েও সমাজে নানা কিছু নেতিবাচক দিক ছিল। তবু বাঙলা এবং বাঙালির স্বর্ণযুগ সেটা শিক্ষা এবং আদর্শে। আমার ওখানে নিজেকে অন্তত ইনসিকিওরড লাগেনা।

Friday, May 20, 2016

এই লেখার নাম মেরুদণ্ড ছাড়া যে কোনও কিছুই

আমি মেরুদণ্ড নিয়ে লিখিনা।

জীববিজ্ঞানে একসময়ে পড়েছিলাম মেরুদণ্ড মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তখন লিখতেই হত।

ইদানীং মেরুদণ্ড নিয়ে অনেক কিছু পড়ি। বায়োলজিতে নয়, কাব্যে। কবিরা লেখেন আর তাঁদের স্তাবকেরা নিজেদের মেরুদণ্ডহীন পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে বাহবা দেন। কবিদের মেরুদণ্ড থাকে কিনা বা থাকলেও তা কেমন আমার জানা নেই। 

আমার নিজের মেরুদণ্ডের অসুখ দীর্ঘদিনের। আর তাও বারান্দায় সোজা হয়ে দাঁড়ালে আমি কোনও মেরুদণ্ডওলা জীব দেখতে পাইনা। 

আমি আর যাইহোক মেরুদণ্ড নিয়ে লিখিনা।

কেন ভোট দেব?

এইসবই আমার শোনা কথা, তবু মনে প্রশ্ন জাগে। শুনেছি বাম আমলে পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষের বিঘে বিঘে জমি সিপিএম দখল করেছিল। তাই তারা বা তাদের উত্তর পুরুষেরা কখনওই আর সিপিএম-কে ভোট দেন না। মানে দেবেনই বা কেন? তাঁদের রাগের তো সঙ্গত কারণ আছে। কখনও যদি সিপিএম-কে ভোট দিলে তা পশ্চিমবঙ্গের ভালো হয় তাও দেবেন না। অবশ্যই ব্যক্তিস্বার্থ আগে। সেটাই তো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মূল সূত্র।

আর আমরা যাদের পূর্বপুরুষেরা ভিটে-মাটি উচ্ছেদ হয়ে এক বাংলা থেকে অপর বাংলায় এসেছি, আমাদের অনেকেরই ওরকম বিঘে বিঘে জমি ছিল ও বাংলায়। শুনেছি আমার দিদা ডঃ বেণীমাধব বড়ুয়ার মেয়ে, তাঁকেও বোরখা পরে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল। অথচ এখনও বোধহয় আমার দাদুদের সেই মুৎসুদ্দি পাড়া রয়েছে ওখানে। আমার ঠাকুরদাদাদের জমিদারী ছিল সে কথা না বলাই ভালো, কারণ পশ্চিমবঙ্গে একটা বিশ্রী ব্যঙ্গ আছে এই বাঙালদের নিয়ে যে তারা সকলেই নাকি দাবি করে যে তাদের পূর্বপুরুষ ওপার বাঙলায় জমিদার ছিল।

আমরা এখনও অধিকাংশই ভিটে-মাটির মালিক হয়ে উঠতে পারিনি বাম-ডান কোনও আমলেই। এখনও আমরা এই বাঙলায় চিহ্নিত এবং কিছুটা ব্রাত্য 'বাঙাল' বলে। হয়ত আমাদের মধ্যে সেটা কিছুটা গর্বও কাজ করে কারোর কারোর। কিন্তু আমি ভাবি, আমরা কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব? আমাদের তো শুধু ভিটে-মাটিই যায়নি, আমাদের শিকড় চলে গেছে। আমরা ওই বাংলায় 'পশ্চিমবঙ্গের লোক' আর এই বাংলায় 'বাঙাল'

আমি কেন ভোট দেব কাউকে?

Thursday, May 19, 2016

আত্মরক্ষা

আমি তো তোমাকে বলেইছিলাম, এমনটাই হবে।
এছাড়া অন্য কোনও বিকল্প ছিল না তাই। এমনটাই হবে।
চিরকাল নিজের কবর মানুষ নিজেরাই খুঁড়েছে। আর খুঁড়েছে
ঠিক তখনই, যখন তার পিঠ পুরোপুরি দেওয়ালে ঠেকে গেছে।
দেওয়ালে ঠেকে যেতেই সে কুঁকড়ে কেবল নীচু হতে হতে
একসময় পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে মানুষ নামক খোলস থেকে।


অনুগত হও

অনুগত হও।
কেন বার বার প্রশ্ন কর?
বলেছি না, অনুগত হও।
নাহলে ওই উদ্ধত মাথা
কী করে নত করতে হয়
সে মন্ত্র আমার জানা আছে।

অনুগত হও।
নাহলে তুমি এবং তোমার প্রিয়জনদের
বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।

অনুগত হও, পা চাটো।
তোমাকেও মুষ্টিভিক্ষা দিতে পারি
মানুষের রক্তে-ঘামে ভেজা লুটের ভাগের।

অনুগত হও, পা চাট।
কে বলতে পারে তোমাকেও
দিয়ে যেতে পারি ক্ষমতার উত্তরাধিকার।

Thursday, May 12, 2016

সম্পাদকীয় - ষষ্ঠ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা 'আমাদের ছুটি'-র জন্মদিনে


কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে পাঁচটা বছর কেটে গেল! ২০১১ সালের ১২ মে 'আমাদের ছুটি'-র পথচলা শুরু হয়েছিল। তার নির্মাণ পর্ব চলেছিল আরও দুবছর আগে থেকেই, সেই ২০০৯ সাল থেকে ছবি, তথ্য, লেখা সব জড়ো করার পালা। গত কয়েক বছরে বদলে বদলে গেছে সহযোগিতার হাত। এই মুহূর্তে 'আমাদের ছুটি'-র সঙ্গে খুব সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে রয়েছেন সহ সম্পাদক সুদীপ্ত দত্ত আর আমাদের সকলের প্রিয় সুবীরদা ও বাপ্পাদা - অর্থাৎ সুবীর কুমার রায় এবং তপন পাল।

প্রায় কোনও প্রচার না থাকলেও 'আমাদের ছুটি' যে বেশ কিছু পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে তা শুধু গুগল অ্যানালিটিকসের তথ্য থেকে নয়, নানা টুকরো টুকরো প্রতিক্রিয়াতেও বুঝতে পারি। ওয়েবসাইটে মতামতের পাতায়, ফেসবুকে, ই-মেলে পত্রিকাটিকে ভালোলাগার অনুভূতির কথা নিয়মিতই কেউ না কেউ জানান। একাধিক পাঠক এমনও জানিয়েছেন যে, বিনামূল্যেই এত ভালো সব লেখা পাচ্ছেন যে প্রিন্টেড ভ্রমণ পত্রিকা না কিনলেও চলে! 'আমাদের ছুটি'-র পাতাতেই লেখালেখি শুরু করে এখন নিয়মিত লেখক হয়ে ওঠার জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন কেউকেউ। আবার কোনও পাঠক পত্রিকা প্রকাশ কেন এত দেরি করে হয় তাই নিয়ে ক্ষোভও জানিয়েছেন।

পাঠকদের কাছে আবারও আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, বছরে চারটের বেশি সংখ্যা প্রকাশের আয়োজন কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না। তবে লেখার ধরণে নানা বৈচিত্র্য এনে গতানুগতিক ভ্রমণ কাহিনির বাইরে অন্যস্বাদ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। এই সংখ্যায় স্মৃতির ভ্রমণের পাতায় স্বনামধন্য লেখিকা মেরি ওলস্টোনক্রফটের দীর্ঘ ভ্রমণকাহিনির একটি টুকরো অনুবাদে দেওয়া হল। আগামীদিনে এমন আরও বিদেশি পুরোনো ভ্রমণকাহিনির অনুবাদ পাঠকের দরবারে হাজির করবার ইচ্ছে রইল।

জনপ্রিয়তার স্বাভাবিকভাবেই কিছু মন্দ দিকও থাকে। তার ভুক্তভোগী আমরাও। 'উত্তরের সারাদিন' নামে উত্তরবঙ্গকেন্দ্রিক একটি সংবাদপত্র গত বেশ কয়েকমাস ধরে নিয়মিতভাবেই কোনও অনুমতি বা স্বীকৃতি ব্যতিরেকেই 'আমাদের ছুটি' থেকে লেখা ও তথ্য তাঁদের কাগজে পুনঃপ্রকাশ করছিলেন। একই কাজ করছিল বাংলাদেশের একটি নিউজ পোর্টাল বিসিসি টোয়েন্টি ফোর নিউজ ডট কম যারা কিনা নিজেদের 'সততার প্রতীক' ঘোষণা করে! এছাড়াও দুটো-একটা লেখা বিচ্ছিন্নভাবে অন্য দু-একটা ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে তা নজরে এসেছে আমাদের। যথাবিধি চিঠি পাঠানোর পর চৌর্য্যবৃত্তি বন্ধ হয়েছে, কিন্তু খোলাখুলি স্বীকার করতে হয়ত তাঁদের সকলেরই 'সততায়' বেঁধেছে।

'আমাদের ছুটি' তার নিজের যোগ্যতায় আর আপনাদের আগ্রহে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। ভ্রমণ ও তার কাহিনি লেখার মারফত সারা পৃথিবীর বাঙালির মধ্যে যে একটা বন্ধুত্ব গড়ে তোলা যায়, পাঁচ বছর আগে দেখা এই স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে। যে যত্নে প্রতিটি সংখ্যার নির্মাণ হয় তা কি কয়েকটা লেখা আর ছবি টুকে প্রকাশ করে দিয়ে নিজেদের সততার প্রতীক বলে জারি করলেই হয়ে যায়? তার গায়ে যে ভালোবাসা আর মায়া মাখানো থাকে তা তো চুরি করা যায় না। অনেক কিছুই হয়না, হওয়া যায় না, অর্জন করতে হয়। অনেক কিছুই হয়না, নির্মাণ করতে হয়।


এই পাঁচ বছরে 'আমাদের ছুটি' আমার নিজের কাছে তেমনই এক অর্জন, এক নির্মাণ। পাঠকের কাছে তা কী সেটা তাঁরাই জানাবেন।
www.amaderchhuti.com

Tuesday, May 10, 2016

ওয়েটিং ফর গোডো

অল্পবয়সে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম বন্ধু চাই।
ঈশ্বর দিলেন।

তরুণ বয়সে বললাম, এবারে প্রেমিক দাও।
ঈশ্বর তাও দিলেন।

মাঝ বয়সে এসে একেবারে চেপেই ধরলাম তোমাকে চাই।
কোনও সাড়াশব্দ নেই।
বললাম, তুমি রবি ঠাকুরের লেখা পড়নি? ওই যে বলে গেছেন, এতো যদি দিলে সখা, আরও দিতে হবে হে, তোমারে না পেলে আমি ফিরিব না, ফিরিব না।
ঈশ্বর ধাঁ করে দর্শন দিয়ে বললেন, শালা, তোর গালে যে দুটো থাপ্পড় মারিনি এই ঢের। পরমুহূর্তেই অন্তর্ধান করলেন।

জীবনের শেষে এসে তাই অপেক্ষায় আছি, কবে তিনি আমাকে চাইবেন...


Ø  লেখাটির নাম Samuel Beckett -এর বিখ্যাত নাটক Waiting for Godot -এর নাম থেকে নেওয়া।