Wednesday, September 16, 2015

জ্বরের ঘোরে

কোনো না কোনোদিন সবাই আগুনে পোড়ে
অথবা মাটিকে ছোঁয় ঘুমের গভীরে।

আমিও আগুনে পুড়ি, মাটিকে ছুঁই
জ্বরের ঘোরে।

তারপর চোখ মেলে বেঁচে উঠি ফের।

আত্মহননের একটি সম্ভাব্য প্রাককথন

সময় - মধ্যরাত
(মশারি তোলা এবং খচমচ আওয়াজ)

স্বামী - কী হল? (ঘুম ভেঙে গিয়ে)
স্ত্রী - কোমরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা করছে, কোনো পাশ ফিরেই শুতে পারছি না। তাই প্যারাসিটামল খাচ্ছিলাম।
স্বামী - আচ্ছা হাত বুলিয়ে দিচ্ছি (ঘুম ঘুম গলায়, এবং ঘুম)।
স্ত্রী - শুনছ?
স্বামী - বল (ঘুমজড়িত কন্ঠে)
স্ত্রী - ধরো, আমি যদি কোনোদিন আত্মহত্যা করি, তাহলে কিন্তু একেবারেই ভাববে না যে আমি জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ। ভীষণ পজিটিভ আমি। কারোর ওপর রাগ-অভিমান তাও নয়, ওসবের কোনো মানেই নেই মারা যাওয়ার জন্য। কিন্তু সারা গায়ে এই প্রবল ব্যথা মাঝে মাঝে আর সহ্য হচ্ছে না।
স্বামী - না কোরো না। (ঘুম ঘুম ব্যথিত গলায়)
স্ত্রী - চিন্তা কোরো না, এক্ষুণি করছি না, আপাতত ঘুমের চেষ্টাই করছি। (গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে)
স্বামী - আচ্ছা। (ঘুম)

আবার দু'একদিনের মধ্যেই এই প্রসঙ্গ অথবা শেষবয়সে দরকার হলে ইউথ্যানাসিয়া কোরো এই বিকল্প বকবক সে আবারও করে যাবে ব্যথা বাড়লেই এই ভাবতে ভাবতে স্ত্রী-র ঘুমের চেষ্টা...।


এটা একটা শুরু বা শেষ না হওয়া কাহিনি।

Tuesday, September 15, 2015

মানুষ কেন যে বড় হলে এমন 'হোৎকা' হয়ে যায়!

ঈশ্বর, আল্লা, গড এবং সর্বোপরি ধর্ম বলে কিছু নেই। সবটাই মানুষের বানানো। আছে কিছু স্বার্থপর চতুর ক্ষমতালোভী মানুষ, কিছু বুদ্ধিজীবী (এরাও ওই একই গোত্রেই পড়ে শুধু মুখোশটা আলাদা), আর অজস্র অশিক্ষিত এবং অর্ধ শিক্ষিত নারী-পুরুষ। আর তাই পৃথিবী, দেশ, রাজ্য, সমা্‌জ সর্বত্র এই হাল। এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়।


সব্বাই আসলে বড় 'হোৎকা' হয়ে গেছে।

নারীশিক্ষা

শুধুমাত্র লেখাপড়া শিখে কিছু ডিগ্রি অর্জন করে, এমন কী চাকরি করে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেও মেয়েরা মানসিক দিক থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে যাচ্ছে। ঊনবিংশ শতকে স্বর্ণকুমারী, সরলা, অবলা এদের মধ্যে যে স্বাধীন মনন তৈরি হয়েছিল তা আজকের অধিকাংশ তথাকথিত শিক্ষিত মেয়েদের মধ্যে অনুপস্থিত। কয়েকজন আছেন যাঁরা নারীবাদী, তাঁদের একটা বড় অংশই উচ্চবিত্ত সুবিধাবাদী শ্রেণীর।

শিক্ষিত মেয়েদের সংখ্যা বাড়াতে হবে, যাঁরা অন্য মেয়েদের শিক্ষার ভার গ্রহণ করবে। এই প্রসঙ্গে নারী শিক্ষা সমিতির রীতা ব্যানার্জির কথা মনে হয়। জীবনটাই দিয়েছেন নারী শিক্ষার পেছনে। অবলা প্রচার চাইতেন না, সেই বিশ্বাসে অবিচল। এমন রীতাদের কথা কিন্তু জানার প্রয়োজন আছে। কারণ এরাই সত্যিকারের নারীবাদী।

মেয়েদের জীবনের প্রধান বাধা দুটো - ধর্ম এবং চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক নিয়ম। সেদিনই মেয়েরা প্রকৃত শিক্ষিত হবে যেদিন এই দুটোর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

নতুন করে নারী শিক্ষা নিয়ে ভাবনা এবং তার প্রয়োগ খুব জরুরি হয়ে পড়েছে, যখন মেয়েদের ওপর অত্যাচার এবং চাপিয়ে দেওয়ার বা ব্রেন ওয়াশের মতো ব্যাপারগুলো ক্রমেই বেড়ে চলেছে সমাজে।

মেয়েরা প্রকৃত শিক্ষিত হলে তবে যদি বাংলা সিরিয়াল দেখাটা কমে। এছাড়া স্টার জলসার টি আর পি কমানোর উপায় নেই।

আমার মনে হয় মেয়েদের যাবতীয় সমস্যার পেছনে রয়েছে প্রকৃত শিক্ষার অভাব এবং বহুযুগ ধরে সমাজের চাপিয়ে দেওয়া ভার যা শিশুকাল থেকে লালনের সঙ্গে রক্তে-মজ্জায় ঢুকে যায়। কিছু মেয়ে তার থেকে মুক্ত হয়ে ভাবতে পারে, যেমন আমার মাকে দেখেছি অনেকক্ষেত্রে। সবচেয়ে ক্ষতিকর তারাই যারা মুক্তচিন্তার মহিলা বলে নিজেদের প্রচার করেন। আগে মানুষ হতে হবে, মেয়েমানুষ হওয়ার আগে। এর প্রতিফলন ঘটে সমাজে, রাজনীতিতে। একজন অশিক্ষিত মহিলা যখন কোনো রাজ্য চালায়, তার যত বড় সর্বনাশ করতে পারে, একশোটা অশিক্ষিত পুরুষও তা পারে না। তার সবচেয়ে বড় কারণ সে নিজেকে শিক্ষিত ভাবে।


এটা একেবারে ছোট থেকে করতে হবে এবং সাধারণ ঘরের মেয়েদের মধ্যে। উচ্চবিত্তদের মধ্যে করাটা শক্ত, তারা বেশি জানে বলে। তবে পরিবারের ভেতর থেকে করতে পারলে সবচেয়ে ভালো। মুসলিম মা যদি জোর গলায় বলতে পারে আমার মেয়েকে বোরখা পড়াব না, বা হিন্দু মা বিয়ের সময় মেয়েকে শাঁখা-সিঁদুর না পড়তে উৎসাহিত করে। যদি ছোটবেলা থেকে শেখানো হয় ভয় থেকে ভগবানের জন্ম সত্যি কিছু নেই, পুরোটাই মানুষের কল্পনা এবং ক্ষমতা দখলের অস্ত্রমাত্র তাহলে অনেক উপকার হয়। তবে ছেলে-মেয়ে উভয়কেই শেখাতে হবে। তারজন্য বাবা-মা উভয়কেই এটা ঠিক বলে জানতে এবং মানতে হবে। আমার মেয়ে তো কোনো সামাজিক সংস্কার বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। শিশুকে প্রকৃত শিক্ষা দিলে তবে তো সমাজ বদলাবে। কারণ বড় হলে মানুষ বড় ‘হোৎকা’ হয়ে যায়, তখন আর কোনো শিক্ষাই নেওয়ার মতো মানসিকতা তার থাকে না।

আমরা কী পরব, কী করব তা নিজেরাই ভাবতে পারি

মেয়েরা কী পরবে, কী করবে, না করবে তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথা মৌলবাদী নেতাদের, সে হিন্দুই হোক আর মুসলিম। আসলে পুরুষেরা জানে যে মেয়েরা তাদের সমকক্ষ নয়, বরং সুযোগ পেলে অনেককিছুতেই তাদের থেকে উৎকৃষ্ট। তাই তাকে কাপড়ে কিম্বা সংসারে মুড়ে চাপা দিয়ে রাখতে চায় যখন নিজেদের সুবিধা আবার নিজেদের ইচ্ছাপূরণের জন্য স্বল্প পোশাকে দেখতে চায়।

তোরা তোদের মতো থাকনা, আমরা মাথা ঘামাচ্ছি নাকি? আমাদেরও আমাদের মতো থাকতে দে। মেয়েদের ধর্ষণ এড়াতে যারা বোরখা পরানোর পক্ষপাতী তাদের উচিত নিজে্দের মানসিক চিকিৎসা করানোর। কারণ ধর্ষণের ইচ্ছা জন্ম নিয়েছে তাদের মনের মধ্যে। এই ধরণের মানসিকতাকে ঘৃণা করা উচিত প্রত্যেকটা মেয়ের।

পুরুষ চিরকাল তার পছন্দের আদলে মেয়েদের দেখতে চায়, অথচ আমরা তো মানুষ, কাদামাটির তাল তো নই। পুরুষের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ধর্ম আর সমাজ। এই দুটো সবার আগে মেয়েদের বাদ দিতে হবে। নাহলে কিছুতেই চাপ কমানো যাবে না।

নারীশিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমি তো বেশ চিন্তিতই। শিক্ষা মানুষের এবং মেয়ে মানুষের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

Monday, September 14, 2015

ব্যাঘ্রে আমারে খাইবে না - মাতা উবাচ

গতকাল বাড়িতে গিয়ে মোবাইল থেকে মাকে আমার ব্লগের লেখা পড়াচ্ছিলাম। বেশ কিছু পড়ার পর 'ব্যাঘ্রে আমারে খাইবে না' পড়ে মা বলল, তোকে মৌলবাদীরা নয় বুদ্ধিজীবীরা খুন করার জন্য সুপারি দেবে, এটা লিখে রাখিস। 

তথাস্তু, লিখে ফেললাম।


ভাবছি পান খাওয়াটা ধরব কী না...ফ্রি তে সুপারি পাওয়া যাবে যখন...

Sunday, September 13, 2015

আত্মীয়তা


ছেলেবেলার খারাপ অংশগুলো লিখতে খুব খারাপ লাগে। তবু একেকসময়ে মানুষ বাধ্য হয় লিখতে।

আমার বাবারা সাত বোন দুই ভাই। আরেক ভাই খুব ছোটবেলায় মারা যায়। পাঁচ বোনের বিয়ে বাবাই দিয়েছিল। ছোটবেলায় দিনের পর দিন দেখেছি মাকে বঞ্চিত করে বাবা পিসিদের আর ঠাকুমার জন্য করেছে। মায়ের পরনের শাড়ি-শায়াও জোটেনি। গয়নাগাটি তো দূরের কথা। এরপরেও কলকাতায় কাকার বাড়ি গেলে মায়ের কপালে কাকা-কাকিমার কাছ থেকে অপমানই জুটত। কাকা-কাকিমা বা কোনো পিসিরাই হাতে করে কোনোদিন আমাদের কিছু দেয়নি, বরং একটা জমি বাবার নাম থেকে নিজের নামে করে নেওয়ার জন্য একবার মাত্র কাকা আমাদের রূপনারায়ণপুরে এসেছিল। ছোটপিসির বিয়ের সময় মাকে দেওয়া ঠাকুমার বালা পিসির গয়না গড়াতে দিয়ে দেয়। সেই বিয়ের সমস্ত খরচ দিয়েছিল আমার বাবা। অথচ বিয়ের সময় মায়ের সস্তা শাড়ি আর শুধু শাঁখা-পলা পরা হাত আমার বড়লোক পিসিদের হাসি-ঠাট্টার বিষয় হয়ে উঠেছিল। আর পিসির বিয়ের পর বোনের বিয়ে দিয়ে উদ্ধার হলেন এমনই ঘোষণা করেন কাকা। যিনি একটা পয়সাও খরচ করেছিলেন কী না আমার সন্দেহ আছে। কারণ বাবার নিজস্ব বইয়ের আলমারি এবং অন্যান্য সমস্ত জিনিস কাকা না বলে দখল করেছিল বাবা কলকাতা থেকে চলে আসার পরেই। তারপরেও আমার বাবা-মা কিন্তু এদের জন্যে করেই গেছে।

আমাদের ছোটবেলায় বাবার প্রথমবার হার্ট অ্যাটাকের সময় মাসি ছাড়া কেউ কিছু করেনি। স্টেশনের কাকারা, বাবার ছাত্র, পরিচিতরাই পাশে ছিলেন। আমার দীর্ঘ অসুস্থতায় নাহ্‌, কেউ কোনোদিন কুশলটুকুও জানতে চায়নি। আমাদেরই সমবয়সী এক পিসির মেয়ের খালি টার্গেট ছিল জানার ও বেশি ভালো রেজাল্ট করল না কী আমরা? তার মা, মানে সেই পিসি কয়েকমাস আগে ফোনে নিজের নাতির সিবিএসই রেজাল্টের কথা গর্বভরে আমার মাকে জানিয়ে আমার মেয়ের রেজাল্টের খোঁজ নিচ্ছিল। কী দুঃখের কথা আমার না পড়াশোনা করা মেয়ে ঢের বেশি নম্বর পেয়েছে। আহা ফোনের ওপারে তার মুখের চেহারা ভেবে আমার বড্ড হাসি পেয়েছিল সেদিন।

এইতো বাবার মৃত্যুর পরও বড়পিসিকে খবর দেওয়ায় মাকে ফোনে কী সব যা তা কথা বলল। বাবার মৃত্যুর দিন মৃত বাবার শিয়রের কাছে বসে ছোটপিসি আমাকে আমাদের প্রেমকাহিনির কথা জিজ্ঞাসা করছিল। না, বাবার মৃত্যুতে আমি একটুও কাঁদিনি। বরং যারা মানে ওই আত্মীয়েরা নাকি কান্না কাঁদছিল সেদিন তাদের প্রত্যেকের গলা টিপে দিতে ইচ্ছে করেছিল আমার। এক বা একাধিকজনকে ধমকও দিয়েছিলাম, চুপ, একদম চুপ।

আমি এদের সঙ্গে বাবা বেঁচে থাকাকালীন ভদ্রতার খাতিরে যতটুকু সম্পর্ক না রাখলেই নয়, রেখেছি। আমার বাড়ির অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাইনি। আমার পক্ষ থেকে মা, বাবা, দাদা বাদে চিরকাল এসেছে ঝুমলা দিদি, বুবুন দাদারা। কবি অমিতাভ দাশগুপ্তের ছেলেমেয়ে। হ্যাঁ, ওদের আমি আত্মীয় বলে মনে করি। পার্ট টু পরীক্ষার আগে বাবার রিটায়ারমেন্টের জন্য হস্টেল ছেড়ে দিই। ঝুমলাদিদির বাড়িতে থেকে পরীক্ষা দিয়েছিলাম।

আমার বিয়ের সময় এদের কাউকে নিমন্ত্রণ করাতেই আমার তীব্র আপত্তি ছিল, কিন্তু তারপরেও বাবার জন্য মেনে নিতে হয়েছিল। কী ভাগ্যিস বিয়েতে কোনো উপহার নিইনি আমরা। ওদের দেওয়া জিনিস তো ঘেন্নায় ছুঁতে পারতাম না। বাবা বেঁচে থাকতে একবার কাকার বাড়িতে নেমন্তন্নে যেতে হয়েছিল, খুব অনিচ্ছার সঙ্গেই গিয়েছিলাম। একবার খুব অনিচ্ছার সঙ্গে বাধ্য হয়ে প্রায় একমাস আমাকে এক পিসির বাড়িতে থাকার নরক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল, সেও বাবার জন্যই।

গতবছর দাদার মেয়ের জন্মদিনে দেখি কাকা, পিসিরা সব সপরিবারে। আমার এত ঘেন্না করছিল কথা বলতে এমনকী ওদের মুখ দেখতে যে রাতে বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। মাকে বলেছি আর কোনোদিন ওরা যেখানে উপস্থিত থাকবে আমায় যেন ডাকা না হয়। ছি, ছি, ছি...আমার মাকে যারা দিনের পর দিন অপমান করেছে তারা আমাদের বাড়ির অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত। মাকে এত বড় অপমান বোধহয় তারাও করেনি।

ভেবেছিলাম বাবার মৃত্যুর সঙ্গে ওই আত্মীয়তা ঝাড়েবংশে শেষ হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে যখন বাইরে থেকে কেউ এসে বাড়ির লোকের পছন্দের বিরুদ্ধে গিয়ে দিনের পর দিন অপমান করে বাড়ির লোককেই তখন বাংলা সিরিয়ালের নায়িকাদের কথা মনে পড়ে আমার। ওই যে যারা ভাইয়ে ভাইয়ে অশান্তি ঘটায়। আসলে আত্মীয় তারাই হয় যারা বিপদের দিনে, প্রয়োজনের দিনে পাশে দাঁড়ায়। মুখে বড় বড় কথা বললে আর দরকারের সময় অপমান করলে আর যাইহোক সে আত্মীয় হয় না।

আর মুখে বড় বড় কথা বললেই কেউ খুব সহৃদয় হয়ে যায় না। একটা গরীব মানুষের পাশে দাঁড়াতে একটু মন লাগে, একটু ভালোবাসা, হোক না সে অনাত্মীয়। বিপদের দিনেই তো আত্মীয়-অনাত্মীয়, আপন-পর, গরীব-বড়লোক এই তফাতগুলো ভালো বোঝা যায়।

মানুষকে ঘৃণা করতে খুব খারাপ লাগে আমার, কিন্তু কিছু কিছু মানুষ নিজেরাই চিরকাল ঘৃণার পাত্র হয়ে ওঠে ঈর্ষা এবং লোভের থেকে।

মাকে বলেছি তুমি মারা গেলে কেবল আমার বড়ভাই আনন্দ দাদাকে খবর দেব। আর কাউকে না। দেহ পুড়িয়ে দেব, বেঁচে থাকতে অনেকের জন্য অনেক করেছ, বাবার মতো দেহদানে দরকার নেই, মরে অন্ততঃ কেউ আর কাটা-ছেঁড়া না করুক। শ্রাদ্ধ তো বাবার ক্ষেত্রেও করিনি, মায়ের স্মরণসভাটুকুও করার ইচ্ছা নেই। মায়ের সঙ্গে এবিষয়ে রীতিমতো আলোচনাই হয়েছে আমার। মাকে বলেছি, তুমি আমার মনেই থেকো, পারলে কোনদিন তোমার জীবনী লিখব। কিন্তু তাতে হাটে এত হাঁড়ি ভাঙবে যে সেটাই মুশকিল।


আত্মীয় বলতেই আমার কেবল স্টেশনের কাকাদের কথা, টুকুন দাদাদের কথা, ঝুমলাদিদিদের মত কত কত মানুষের কথা মনে পড়ে যায়। ভাগ্যিস, এরা ছিল, আর ভাগ্যিস এরা কেউ আমার তথাকথিত আত্মীয় নয়।