Wednesday, September 9, 2015

মৃত ঈশ্বরের কাহিনি

ঈশ্বর বহুকাল হল মারা গেছেন -
তাঁর লাশ থেকে ইদানীং বড় পচা গন্ধ ওঠে।
আল্লা অনেকদিনই হল মৃত -
কিন্তু তাঁকে পোড়ানো হবে না কবর খোঁড়া হবে
তা এখনো অমীমাংসিত।
ঈশ্বর, আল্লা অথবা গডের দেহ পচে ফুলে উঠেছে,
মাছি ভনভন করছে চতুর্দিকে।
মাছিরা শুধু চিৎকার করছে -
দাহ...কবর...কবর...দাহ...।

স্বর্গে অথবা নরকে কোথাও কি পৌঁছলেন শেষপর্যন্ত?
অতৃপ্ত আত্মা হলেও আশ্চর্য হব না।

চিরকাল ক্ষমতার ওপরতলায় ছিলেন,
এখন কীটগ্রস্ত, গলছেন ধীরে ধীরে
অধীনস্থ জীবেদের মতোই।

দূর্গন্ধে টেঁকা যাচ্ছে না।

দাহ অথবা কবর যেকোনোটাই খুব জরুরি

ওনার এবং আমাদের বেঁচে থাকার জন্যও।

বিপন্নতা

মৃত্যু আমাকে আজকাল আর ভয় দেখায় না,
জীবন অথবা ভালোবাসাও নয়।
শুধু সন্তানের মুখের দিকে তাকালে বিপন্ন বোধ করি।
আগামীর মুখের দিকে তাকালে অসহায় লাগে বারবার।

দেখি ওরা বালিতে মুখ গুঁজে পড়ে আছে।

আমার সন্তানেরা অথবা ভবিষ্যত!

কেন চেয়ে আছ গো মা মুখপানে?

সাক্ষর এবং শিক্ষিতের মধ্যে বিস্তর তফাত। আগে যাঁরা রাজনীতি করতেন তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষিত মানুষ। আর এখন যদিবা সাক্ষর হন, শিক্ষিত কোনোমতেই নন। রাজ্য-জাতীয় সর্বস্তরের চিত্র এটাই। পরস্পরের প্রতি নোংরামো আর কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি দল-মত নির্বিশেষে। আর সকলেরই একটা খুব বাজে অভ্যেস তারমধ্যে সাধারণ মানুষকে টেনে আনা। যেন তাদের কথা ভেবে কারোর চোখে ঘুম নেই, পেটের ভাত হজম হচ্ছে না। অথচ প্রত্যেকেরই আসল উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল, বাজার দখল।

অথচ এই সাধারণ মানুষই আমার দেশ।

আজও ঋত্বিকের সেই চেহারাটা মনে পড়ে আর দেবব্রতর কন্ঠ - কেন চেয়ে আছ গো মা, মুখপানে? ওরা চাহে না তোমায় চাহে না যে আপন মায়েরে নাহি জানে...।

সর্বস্তরের রাজনীতিতে প্রকৃত শিক্ষিতের সংখ্যা না বাড়লে কোনো পরিবর্তনেই কিছু হবে না।

যেটা ভাবার তা হল, প্রকৃত শিক্ষিতের সংখ্যা কমছে না তাঁরা রাজনীতি বিমুখ হচ্ছেন?

লেটারবক্স

বাইরে থেকে বাড়ি ফিরলে সবসময় একতলায় লেটারবক্স দেখে নিই একবার। জানি আজকাল চিঠি আসে না। মাঝে মধ্যে টেলিফোন বিল গোঁজা থাকে শুধু।


আসলে কারো কারোর বাজে স্বভাবই থাকে জীবনে হাতড়ে বেড়ানোর।

তোমাকে খুঁজছিলাম

এখনো রাস্তায় কাউকে কাউকে দেখলে তোমার কথা মনে পড়ে। চিরকাল বায়োলজি পড়াতে গেলেও তোমাকেই মনে পড়ে। কোথায় আছ, কেমন আছ জানি না। 

আমার তো চুল পাকল ঢের। তুমি কিন্তু সেই সাতাশ বছর বয়সেই রয়ে গেলে অশোকাদি।

কলম অথবা

কলম যখন আপন আনন্দ প্রকাশের জন্য হয় তখন তা বিলাস। কাউকে তা না জানালেও চলে।

কলম যখন অন্যের আনন্দ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তখন তা সুরা অথবা অস্ত্র যেকোনটাই।


কলমকে কী ভাবে ব্যবহার করব সেটাই নিজের জানার।

ব্যাঘ্রে আমারে খাইবে না

যখন আবার করে কবিতা লিখতে শুরু করলাম আর বিস্তর আবোল তাবোল, তখন পরিচিত অপরিচিত অনেকেই উৎসাহ দিলেন ব্লগ খুলে ফেলার। তা খুললাম। চটলেন আমার মা। কারণ তিনি ব্লগার হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি জেনেছেন। তাঁর থেকে বেশি আর কেউ এইটা জানে না যে আমাকে সোজা ভাষায় 'না' বললে ঠিক সেই কাজটাই আমি করি, তাই চিরকাল তিনি আমার ক্ষেত্রে বাঁকা আঙুলে ঘি তুলতে যান। বললেন, এই ব্লগ করাটা হচ্ছে সস্তা খ্যাতি। দুদিন বাদে কেউ মেরে দেবে আর বিখ্যাত হয়ে যাবে। বললাম, ভুল করছ মা, মরে গিয়ে আর কে কবে বিখ্যাত হয়েছে? ইদানীংকালে তো নয়ই, ওসব আগের যুগে হতো। দুদিন একটু গরম গরম আলোচনা হবে তারপরে সব্বাই ভুলে যাবে ওদের। আবার একটা খুন হলে আবার কিছুদিন। বিখ্যাত তারাই হয় যাদের গায়ে কোনো আগুন অথবা অস্ত্র ছোঁয় না।


আর বলি, আমার জন্য চিন্তা কোরো না। হাবুল সেন বলে গেছে না, ব্যাঘ্রে আমারে খাইবে না।