কেন মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আলাদা করে মুসলিম ল বোর্ডের অধীনে
থাকবে এটা আমার মাথায় ঢোকেনা। কেন সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের মতো উভয়পক্ষীয় হওয়ার কোনো
সুযোগ থাকবেনা। একবিংশ শতকেও মুসলিম মেয়েদের অনেক ছোটবেলায় বিয়ে হয়। এখনও তাদের
বোরখা পড়ে থাকতে হয়।
মুসলিম সমাজে প্রকৃত শিক্ষার অভাব এর মূল কারণ। ধর্মান্ধতার
জন্ম দেয় প্রকৃত শিক্ষার অভাব। আর তার শিকার হয় নারী সমাজ।
পশ্চিমী দুনিয়ায় কালো মেয়েদের অবস্থা এবং অবস্থানের মতোই
আমাদের সমাজে মুসলিম মেয়েদের অবস্থা এবং অবস্থান। একে নারী, তাই সে পুরুষ শাসিত সমাজের শিকার, তায় মুসলিম, তাই সে হিন্দু বিদ্বেষের শিকার, এবং সর্বোপরি সে মুসলিম নারী, তাই মুসলিম সমাজের শিকার।
আমেরিকান সাহিত্য পড়তে গিয়ে দেখেছি কালো মেয়েরা সাদা এবং
কালো উভয় সমাজের পুরুষদের বিরুদ্ধে যেভাবে কলম ধরেছে, তা পড়তে
পড়তে শিউরে উঠতে হয়। মুসলিম নারীদেরও নিজেদের কথা বলতে হবে নিজেদেরই। কিন্তু
সেখানেও তারা দুর্ভাগ্যের শিকার। তাদের শিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত, আরও কম কথা বলার।
মাবেয়া খাতুনকে মনে পড়ে আমার। আমাদের সঙ্গে স্কুলে পড়ত।
মধ্যমেধার এই মেয়েটি খুব ভালো সেলাই করত। ক্লাস নাইনে বিয়ে হয়ে যায়। আমায় বলেছিল, বিয়ে করার একটুও ইচ্ছে নেই ওর, আরও পড়াশোনা করার ইচ্ছে। নাহ্, স্কুলের চৌহদ্দির মধ্যে আর কোনোদিনই দেখিনি মেয়েটাকে। কোথায় আছে জানিনা, কটা ছেলেমেয়ে সামলাচ্ছে অথবা তালাক, তালাক, তালাক
ঘটেছে কিনা।
মুসলিম যে পুরুষরা তুলনায় আধুনিক হয় তাদের কিন্তু এই সমাজ
পরিবর্তনের দায়িত্ব অনেকটাই বর্তায়। যার মূল আছে নারী শিক্ষা প্রসারে। এক্ষেত্রে
শিক্ষার অর্থ লিটারেসি নয় অবশ্যই, এডুকেশন।
রাজনৈতিক দলগুলি কিছু করবে না। মুসলিম ভোটের ঝোল টানার
প্রয়োজন আছে সবারই। করতে হবে মানুষকেই।