কত
অনায়াস শব্দোচ্চারণ – জীবন মৃত্যু প্রেম বিরহ বন্ধুত্ব সম্পর্ক এমন কী বিপ্লব –এইসব, সবকিছু! অ্যাতোটা
অনায়াস শব্দচয়ন কি অনুভূতি শূন্য করে তোলে না? অ্যাতো অনায়াস শব্দোচ্চারণ কিছু কি বোঝায়
আদৌ? একটি শব্দেই মৃত্যুর দেনাপাওনা শেষ হয়। কার্পণ্য মৃত্যুর প্রতি? বেঁচে থেকে
যে মৃত্যু আস্বাদন করে অথবা জীবন যাকে দূরে নিয়ে যায় তাকে কোন শব্দের অভিঘাতে ধরে
ফেলব এক মুহূর্তে? দূর থেকে ভেসে আসা সুর কি বাঁধা যায় যন্ত্রের নিস্পৃহতায়?
বিপ্লব বা প্রেম কেউই আজ আর দীর্ঘজীবী নয় – সমার্থক শব্দদুটি নিহত হওয়ার আগের মুহূর্তে ভেসে বেড়ায় কবিতার
অক্ষরমালায়। শব্দের বিরহ নেই ভাগ্যিস! নাহলে এইসব শব্দ ও অক্ষরমালা নিস্তব্ধ হলে
কোনও মায়ালোক সৃষ্টি হত না কোথাও। বন্ধুত্ব চমৎকার সহজলভ্য ভাতের থেকেও। প্রতিদিন
নতুন অক্ষরমালার জন্ম ও মৃত্যু হয় সম্পর্কের মতো। এইসব মুছে গেলে কেউ মাটিহীন আকাশহীন
হবে না কখনও। শুধু ক্ষুধা ও যুদ্ধ কোনও শব্দনির্ভর না হয়েও বেঁচে থাকবে মানুষ
শব্দের আজীবনে।
Sunday, March 13, 2016
Friday, March 11, 2016
হরেক মাল
আজকাল
সবথেকে বেশি বিক্রি হচ্ছে মানুষ -
সস্তায়
অথবা চড়া দরে।
এর আগে
বিকোতো বিবেক কিম্বা কলম।
কেউ কেউ
অবশ্য তার নাম রেখেছিল – “আপস”।
এখন আর
নামটামের বালাই নেই,
একেবারে
খোলা বাজারে ক্রীতদাসের মতো বিকোচ্ছে
মানুষ,
মানুষ এবং মানুষ।
বন্ধু তোমার লাল টুকটুকে স্বপ্ন বেচো না
কবি অথবা
বুদ্ধিজীবীদের পরিবর্তনে কারা খিস্তি-খেউর করছেন জানিনা। এখন তো সবই বিক্রয়যোগ্য -
বিবেক থেকে কলম। আমি পুরোনো দিনের মানুষ কিনা। কোথায় যেন লেগে যায় মানুষের এই
অর্থের জন্য বিবেক বা কলম বেচে দেওয়াটা। ওই যে কে যেন বলেছিলেন, "হাতের কলম জনমদুখী, তাকে বেচো না"। কী জানি আমার মায়ের কাছে এই শিক্ষাই পেয়েছি। মাকে দেখেছি
কখনও প্রচারের দিকে না যেতে। অথচ সেভাবে পাঠক পরিচিতি না পেলেও আধুনিক বাংলা
সাহিত্যের ইতিহাসে কোথাও তাঁর নামটি রয়ে যাবে জানি। ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনও কলমের
জন্য আপোষ করিনি। সেটা যাঁরা আমার 'ভ্রমণ' পত্রিকা থেকে এককথায় ছেড়ে আসার
কথা জানেন তাঁরা জানবেন। হ্যাঁ, আমার খেতে
পাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা আছে। কিন্তু তা না থাকলেও এর ব্যতিক্রম ঘটত না। কলম কখনওই
বেচার জিনিস নয়, আমি মনে করি।
বড় মাপের
লেখক-কবি হয়ে নিজেকে বেচে দেওয়ার চেয়ে সাধারণ মাপের মানুষ হওয়া ঢের ভালো।
হাতের কলম জনমদুখী
ব্যক্তি
মানুষ থেকে লেখককে কি আলাদা করা যায়? আমি ঠিক করতে পারি না। কোনও মানুষ বা শিল্পী-লেখকদের মত বদলাতেই পারে, সারাজীবনে এক বা একাধিকবার। কিন্তু লেখা একরকম আর তার
বাস্তব চেহারাটা অন্যরকম এইটা আমার একেবারেই ভালোলাগেনা। তাই ইদানীংকালের
লেখক-কবিদের লেখা হয়তো কারোর কারোর ক্ষেত্রে ভালোলাগলেও পড়ি না। মানুষটার চেহারা
ভেসে উঠলে লেখাটার আর কোনও অর্থ থাকে না। হাতের কলম বেচার থেকে টাকার জন্য মোট
বওয়াও ভালো। তাহলে অন্ততঃ কবিতার সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যাবে। সুদৃশ্য ফ্ল্যাটে
বসে অমন লেখার মধ্যে আর যাই হোক মানুষ নামক ব্যক্তিটি থাকে না। সে যত বড়ই লেখক হোক
না কেন।
প্রাচীনপন্থী!
আমি
ঊনবিংশ শতক নিয়ে থাকি। তাই এক হিসেবে বেশ শান্তিতে থাকি। তখন সত্যিকারের বিদ্বতজন
ছিলেন। আদর্শ ছিল। বুদ্ধিটা কখনওই জীবিকা ছিল না। বিক্রি হওয়ার তো কোনও প্রশ্নই
ওঠে না। যাঁরা লেখালেখি করতেন এমন মহিলারাও অধিকাংশই ছিলেন সংস্কারমুক্ত। তেমনি
ক্ষুরধার ছিল লেখনি। সরলাদেবীর মতো যেসব মেয়েরা গান লিখতেন, সুর দিতেন, তাঁরা গান
বিক্রি করার কথা কল্পনাই করতে পারতেন না মনে হয়।
মাঝে
মাঝে একবিংশে ফিরি। তারপর ধরণী দ্বিধা হও বলে আবার ফিরে যাই সেই ঊনবিংশেই।
যেই না রাস্তার নাম রাখল...
হাস্যরস
শরীর এবং মন উভয়ের পক্ষেই স্বাস্থ্যকর। খুব কম মানুষই পারেন অন্যকে হাসাতে। খবরের
কাগজে প্রতিদিন প্রকাশিত খুন, ধর্ষণ এসব
নিত্যনৈমিকতার মাঝে হাসির খবর মনমেজাজ ভালো করে। ডি এ ইত্যাদি তুচ্ছ জিনিসের বদলে
নানাভাবে,
নানারূপে হাস্যরসে বাঙালিকে মজিয়ে রাখার এই চেষ্টাকে কিনা
নিন্দা করে লোকে! কেউ কখনও কোনওদিনও ভাবতে পারবে না, এমন সব আশ্চর্য কবিতা এবং নিত্যনতুন আশ্চর্য আইডিয়ায় নিয়মিত জনসমাজে হাসির
খোরাক জুগিয়ে জনস্বাস্থ্যের মঙ্গল করছেন।
যেই না বাড়ির নাম রাখল 'কিংকর্তব্যবিমূঢ়' অমনি সব হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে গেল - কী আশ্চর্য দূরদর্শী ছিলেন সুকুমার রায়।
Wednesday, March 9, 2016
আমাদিগের ভ্রমণ বৃত্তান্ত
কালকে ‘আমাদিগের ভ্রমণ বৃত্তান্ত’-এর প্রথম পর্বের প্রুফ
দেখতে দেখতে একটা অদ্ভুত ভাব এল মনে। মনে হল প্রায় দেড়শো বছর আগে একটি মেয়ে হয়ত
জীবনে প্রথমবার বাড়ির বাইরে পা রেখেছিল। বেড়িয়ে বাড়ি ফিরে এসে বা হয়ত সেখানেই কারো
বাড়িতে বসে সেই ভালোলাগার কথা, তার অনাবিল আনন্দ, তার নতুন দেখার মূর্চ্ছনা কালিতে
কলম ডুবিয়ে কাগজে লিখতে বসেছিল। ভ্রমণকাহিনির প্রথম পর্ব লিখে ওপরে গোটা গোটা
অক্ষরে লিখেছিল ‘আমাদিগের ভ্রমণ বৃত্তান্ত’। অমনি স্থান-কালের গন্ডি
পেরিয়ে ইতিহাসের পাতায় সেই নামটি আঁকা রয়ে গেল। হয়ত সে ভেবেছিল, বামাবোধিনীতে
পাঠালে তারা ছাপবে তো? এমন লেখা তো আগে কখনও বেরোয়নি। তখন এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের
কোথাও আমি ছিলাম না। অথচ তার সঙ্গে সেই মুহূর্তে আমার একটা বন্ধন তৈরি হল। সে যেন
আমার জীবনের উদ্দেশ্য রচনা করে দিল সেই ক্ষণে। আমার জন্ম যেন নির্দেশিত হল।
Subscribe to:
Posts (Atom)