আজ সকাল
থেকে একটি মেয়ের কথা মনে পড়ছে খুব। তাঁকে আমি প্রায় চিনি না। নাম রীতা ব্যানার্জি।
দেখে আন্দাজ করেছি খুবই সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে, অথবা থাকেন সেভাবেই। ‘নারী
শিক্ষা সমিতি’র ঠিক কী পদে আছেন আমার মনে নেই। মনে হয় তার প্রয়োজনও নেই। কারণ সদা সর্বদা
হাসিমুখে প্রতিষ্ঠানটির সব কাজে তিনি আছেন। বিয়ে করেননি। এই প্রতিষ্ঠানটিই তাঁর
জীবন। কলকাতা নয় ঝাড়গ্রাম,দৌড়ে বেড়ান কাজ
নিয়ে। অক্লান্ত বললেও কম বলা হয়। সামান্যই পরিচয়। তবু একটি কথাতেই অসামান্য
লেগেছিল। বলেছিলাম, এখন তো প্রচারের
মাধ্যম ও সুযোগ অনেক বেশি। করেন না কেন? বলেছিলেন,অবলা বসু চাইতেন আমরা নিঃশব্দে
কাজ করি। তাঁর সেই আদর্শই মেনে চলি। চারদিকে এত এন জি ও-র রমরমা। কত টাকাপয়সা তারা
পায় প্রচারের জোরে। আর এখানে কয়েকজন মহিলা আরও কিছু মেয়েদের জন্য নিঃশব্দে লড়ে
যাচ্ছেন। যাঁদের অন্যতমা রীতাদি। হয়ত একটু আর্থিক সাহায্য,একটু লোকবল প্রতিষ্ঠানটিকে ঠিকভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য
করত। রীতাদির মানা সত্ত্বেও আজ তাঁদের কথা একটুখানি লিখলাম। সকাল থেকে যে এটাই
বারবার মনে পড়ছে আজ। এদের যে প্রত্যেকদিনই নারী দিবস। নারীকে শিক্ষিত করছেন যাঁরা
তাঁদেরকে শ্রদ্ধা জানাই।
Tuesday, March 8, 2016
Monday, March 7, 2016
ধর্ম-অধর্ম
‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটা অনেকটা সোনার
পাথরবাটি গোছের। নামে থাকে,কিন্তু আদপে
নেই। ধর্ম সম্পর্কে ওই ‘টলারেন্স’ শব্দটার ব্যবহারও তাই।
ভাবছিলাম,একটা ‘অধার্মিক’ দেশ হলে মন্দ হত না,যেখানে কারোর কোনও ধর্ম থাকবে না। মানুষ বলেই পরিচয় হবে। এই ভাবনাটা ইউটোপিয়া
হলেই বা কি?
‘ধর্মনিরপেক্ষ’ লিখে যদি দিনরাত ধর্ম নিয়ে
মারামারি করতে পারে তাহলে ‘অধার্মিক’ লিখতে আপত্তি কোথায়? সে দেশেও তো যারা ধর্ম মানবে আর মানবে না তাদের মধ্যে মারামারি হবে। যেমন ‘ধার্মিক’ না লিখেও এ দেশে হয়।
হীরক রাজ্য
রাজনীতি বলতেই আমার মনে হয়, কতগুলো দল এবং নিজের স্বার্থে
তাদের মধ্যে দলাদলি। যে দলই দাবী করুক না কেন সে মানুষের স্বার্থে, মানবিকতার
স্বার্থে, ইত্যাদি ইত্যাদি স্বার্থে ময়দানে নেমেছে, বেমালুম বাজে কথা বলে। বরং
কোনও মানুষ যদি রাজনীতির বাইরে থেকে কিছু বলে, রাজনীতি প্রাণপনে তাকে আগ্রাসন করার
চেষ্টা করবে। তাকে কোনও একটা দল বেছে নিতে হবে বেঁচে থাকার জন্য। যাঁরা ধর্ম নিয়ে
রাজনীতি করেন, তাঁরা সবথেকে ভালো করে জানেন ধর্ম একটি ভাঁওতা এবং সাধারণ মানুষের
দূর্বল মনে প্রভাব ফেলার সবথেকে ভালো উপায়। রাজনীতি, ধর্ম, সাম্রাজ্যবাদ সব একেকটি
চক্রব্যূহ, মানুষকে মানুষ হতে না দেওয়ার অথবা সে যে মানুষ এইটা ভুলিয়ে দেওয়ার যন্ত্রবিশেষ।
গোটা পৃথিবীটাই এখন হীরক রাজ্য। কেবল দড়ি ধরে টান মারবার
মানুষের সংখ্যা ক্রমশঃ কমছে দিনদিন।
আসলে মানুষের মধ্যে কমে আসছে ভালোবাসা আর বিশ্বাসের মতো
মৌলিক অনুভূতিগুলো। বাড়ছে সন্দেহ আর ঘৃণা। বিশ্বায়ণ আমাদের এইটিই দিয়েছে।
ফুচকাওলা
সবাই যখন নানা সিরিয়াস বিষয় নিয়ে ভাবনায় ও কথায় ব্যস্ত, আমি
ভাবছিলাম ফুচকাওলার কথা।
ফুচকাওলাদের রাস্তায়, গলির মোড়ে মোড়ে দেখেছি, এমন কী তার
ফুচকার ডালি নিয়ে হেঁটে যেতে দেখেছি কতবার। কাল দেখলাম রিক্সার ওপর সে তার ফুচকার
ডালি নিয়ে চলেছে। ভারী আশ্চর্য লাগল দেখে।
এমন নয় যে ফুচকাওলারা রিক্সায় চাপতে পারে না। সে তো ভাড়া
দিয়ে যে কেউ চাপতে পারে। আর ফুচকার ডালি নিয়ে না চাপলে সে ফুচকাওলা না ভূগোলের
মাস্টারমশাই তা কেউ বলতে পারে না।
মাস্টারমশাই বলতেই মনে পড়ল, ছোটবেলায় স্কুলের টিচারদের,
ডাক্তারদের কী পুলিসকে বাজার করতে দেখলে বা ছেলে-মেয়ে নিয়ে যেতে দেখলে খুব আশ্চর্য
লাগত, যেন তারা অন্যকিছু হতে পারে না। আমার বাবাও শিক্ষক ছিলেন এবং বাজার করতে
ভালোবাসতেন, তাও। আসলে বাবারা আবার বাবাই থাকে। বরং যখন বাবা ক্লাস নিত তখনই কেমন
কেমন লাগত আমার। পারতপক্ষে বাবার ক্লাস করতাম না।
বাসে বা ট্রেনেও চড়ে নিশ্চয় ফুচকাওলারা। ফুচকার ডালি নিয়ে
চড়ে কি? এটাই ভেবে যাচ্ছি সেই থেকে।
সব শুনে মেয়ে বলল, 'আমি কত্তবার দেখেছি ওদের রিকসায় চড়তে, এতে
আশ্চর্যের কী আছে?'
সত্যিই তো, ফুচকাওলা বলে কি ওরা মানুষ নয়?
হাসবেন না হাঁসাবেন?
আমাদের এদিকে অনেক বাসস্ট্যান্ডে নতুন করে চেয়ার আর হোর্ডিং
হয়েছে। সেসব ভালোই। যদিও চেয়ার না পেতে পুরোনো যে কম খরচের টানা লোহার বেঞ্চিমতো
থাকত সেটাই ভালো ছিল। এখন তো বাসস্ট্যান্ড দেখলে মনে হয়না কোথাও আর যাই, ভাবি
খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিই, তারপরে বাসে ওঠা যাবেখন। সে নাহয় হল। এইসব বাসস্ট্যান্ডের
গায়ে, মানে পেছনের দিকে এক এক জন মহান মানুষের ছবি, এবং তাঁর উক্তি বা তাঁর
সম্বন্ধে কোন কথা। আর মাথার ওপর হোর্ডিং-এ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং স্থানীয়
বিধায়কের ছবি। তাও নাহয় হল।
বাসে করে যেতে যেতে চোখে পড়ল দমদম পার্ক বাসস্ট্যান্ডের ছবি
ও লেখাতে। ক্ষুদিরামের পাশে লেখা – হাঁসি হাঁসি পড়ব ফাঁসি দেখবে জগতবাসী।
ভাবি কারা যে এদের মাথায় দেশপ্রেম ঢুকিয়েছিল কে জানে! একে তো অল্পবয়সে মারা গেল,
তার ওপর মরেও শান্তি নেই। কোথাও ভগৎ সিং হয়ে ঝুলে থাকতে হয় তো কোথাও হাঁসতে হয়
এইসব দেখে।
যাঁরা দেশপ্রেম নিয়ে খুব মাতামাতি করছেন, তাঁরা একবার ভেবে
দেখতে পারেন, এই হচ্ছে ভবিষ্যত। অতএব দেশপ্রেম খাবেন না মাথায় দেবেন আগে ভাবুন
একটু। হাসবেন না হাঁসাবেন?
বিদ্রঃ দেশপ্রেমের বিপরীত আবার দেশদ্রোহী ভেবে বসবেন না
যেন। আমার বাসভূমি পৃথিবী আর তাকে বাঁচিয়ে রাখার নৈতিক দায়িত্ব আমার, খণ্ড খণ্ড
জমির ওপর অধিকার কায়েমের লড়াই না করে, যে লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পৃথিবী এবং
বিপন্ন হচ্ছে মানব প্রজাতি – একথা ভাবাটাই খুব জরুরি এখন।
‘মা’ একজন মানুষ
একজন মা তার সন্তানদের খুন করেছে এই পরিপ্রেক্ষিতে হঠাৎ করে
‘মা’ শব্দটা মহান, মা কখনও খারাপ হয় না, মা খারাপ
হলে সেটা ব্যতিক্রম এমন নানা কিছু পড়ছিলাম। আমি নিজেও কারও সন্তান এবং কারোর মা।
ভেবে দেখলাম মায়ের ওপর এই মহান আখ্যাটা চাপিয়ে দেওয়া সেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের
কৌশল মাত্র। একটা মেয়েকে মানুষ বলে গণ্য না করে ‘মা’ নামক
বিশেষ তকমাটি এঁটে দিয়ে তার আচার-আচরণকে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার। এমন কী খুব
হাস্যকরভাবে মাকড়সার সন্তান জন্মের পর মাকে বাচ্চারা খেয়ে নেয় এই ভুল উদাহরণও
এসেছে। স্ত্রী মাকড়সা মিলনের পর জৈবিক নিয়মানুযায়ী পুরুষ মাকড়সাকে খেয়ে ফেলে।
বায়োলজিতে আমাদের একটা চাপ্টার পড়তে হয়েছিল, ‘পেরেন্টাল কেয়ার’। অনেকদিন আগে তো তাই বিশেষ মনে
নেই। যতটা মনে আছে যে বিভিন্ন প্রাণীদের মধ্যে কোন কোন প্রজাতিতে এই ‘পেরেন্টাল কেয়ার’ দেখা যায় এবং তার নানা উদাহরণ।
যেমন, এক প্রজাতির মাছ আছে নামটা মনে নেই, যতদিন না বাচ্চা বড় হয় পুরুষ মাছটি তাদের
বহন করে বেড়ায় একেবারে আক্ষরিক অর্থেই।
যেমন অধিকাংশ প্রজাতির ক্ষেত্রে স্ত্রী প্রাণীটি বাচ্চাদের দেখভাল করে। এটা
সম্পূর্ণ একটা বায়োলজিকাল ইন্সটিংক্ট। এরমধ্যে কোন মহত্ত্ব নেই। মানুষের ক্ষেত্রেও
প্রাথমিকভাবে ওই বায়োলজিকাল ইন্সটিংক্ট কাজ করে সন্তানকে রক্ষার ক্ষেত্রে। এই
বায়োলজিকাল ইন্সটিংক্টের পিছনে রয়ে নিজের প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখার স্বাভাবিক
প্রবৃত্তি। বরং মানুষ ভাবনাচিন্তা করতে পারে বলেই অনেকসময় বেসিক বায়োলজিকাল ইন্সটিংক্টের
বিরুদ্ধেও যায়। এটা নির্ভর করে মানুষটির প্রকৃতি এবং পরিবেশের ওপর।
‘মা’ একজন মানুষ। তিনি হোমো
স্যাপিয়েন্স প্রজাতির বায়োলজিকাল ইন্সটিংক্ট অনুযায়ী কাজ করেন। এরসঙ্গে পরিবেশ ও
পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবহার করেন। সব মানুষের মতোই তার মধ্যে ভালো এবং মন্দ আছে।
প্রত্যেক প্রাণীর মতোই বাবা-মায়ের জৈবিক ক্রিয়ায় সন্তানের জন্ম হয় এবং তাকে বাঁচিয়ে
রাখার প্রাথমিক দায়িত্ব খুব স্বাভাবিকভাবে তাদের ওপরেই এসে পড়ে। কোন কোন প্রজাতির
ক্ষেত্রে দুজনের ওপরেই বা কোন একজনের ওপর। পুরোটাই জীববিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী। তাকে
মহৎ বা খারাপ আলাদা করে কোন তকমা দেওয়াই উচিত নয়।
মোদ্দা কথা ‘মা’ হয়েছি সেটাই অনেক, মহৎ হতে পারব
না বাপু। আর কিছু চাপিয়ো না। ভালোমন্দতে মানুষ হতে চাই আমরা সেইটি হতে দেবে না
কেউ। আশ্চর্য!
Sunday, March 6, 2016
দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে
সুমনের গান আমার সবসময়েই প্রিয়। এমন কী রবি ঠাকুরের গানের
পরেই সুমনের বহু গানকে কালজয়ী বলে মনে হয় আমার। এতকাল তবু সামনাসামনি শোনা হয়ে
ওঠেনি আমার কেন জানি। যদিও কলেজজীবন থেকেই কলকাতাতে থাকি। প্রথম যেবার দোলে
শান্তিনিকেতন যাই, স্থানীয় এক ভদ্রলোক বলেছিলেন, আপনি তো আসল উৎসবটাই দেখতে পেলেন
না, এবছরই আশ্রমের মাঠ থেকে মেলার মাঠে বসন্ত উৎসব সরে এসেছে। আমি কী দেখলাম তা
আমিই জানি। চোখে কি আর সব দেখা যায়? দেখে তো মানুষ অনুভবে। তেমনই আমাদের অল্পবয়সে
সুমন যখন হৈ হৈ করে গান গাইছেন, আর সেই গানে প্রাণের মধ্যে মোচড় দিচ্ছে, স্বপ্ন
দেখাচ্ছে তখন সুমনের অনুষ্ঠান দেখা হয়নি আমার। মনে আছে দাদা তখন কলকাতায় থাকত, আমি
হায়ার সেকেন্ডারি পড়ছি, রূপনারায়ণপুরেই। সুমনের অনুষ্ঠান দেখে দাদার খুব
ভালোলেগেছিল, ‘তোমাকে চাই’ ক্যাসেটটা কিনে বাড়িতে এনেছে।
আমরা শুনছি। একে তো দাদা যা বলে যা করে সব আইডিয়াল আমার। তার ওপরে আবার সেইসময়ের
সুমনের গান।
গতকাল সুমনের গান প্রথম সামনাসামনি শোনা। আমারও প্রথমবার,
মেয়েরও। মেয়ে আবার ইংরেজি গান শুনেই অভ্যস্ত। ধুতি-পাঞ্জাবী পড়া বয়স হয়ে যাওয়া
সুমনের আবির্ভাব মনে কিছুটা ধাক্কা দেয়। আসলে ‘তিনি বৃদ্ধ হলেন’ এটা যেন সুমনকে ঠিক মানায় না। বরং যখন গলা
খুলে গেয়ে ওঠেন, ‘আমারও তো বয়স
হচ্ছে রাতবিরেতে কাশি, কাশির দমক থামলে কিন্তু বাঁচতে ভালোবাসি’ তখন ঠিক লাগে। বেশ কয়েকটা না
শোনা গান গাইলেন সুমন। তারমধ্যে ‘জন হেনরী’ গানটার অন্যরকম কথা ও সুর মনে
দাগ কাটলো। হেমাঙ্গ বিশ্বাস কৃত গানটি আমার ভীষণ প্রিয়। ছেলেবেলায় মায়ের সঙ্গে
একসঙ্গে কত গেয়েছি। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হত গানটার শব্দে ও সুরে। চেনা গানের মধ্যে
সকলের চিরকালীন প্রিয় ‘তোমাকে চাই’ গানটা অত না ভেঙ্গে গাইলেই ভালো
হত। শহীদ কাদরীর কবিতা অবলম্বনে ‘তোমাকে
অভিবাদন প্রিয়তমা’ আমার অসম্ভব
প্রিয় গান। প্রেমের এত ভালো গান সত্যিই হয় না। ‘ভালোবাসা শত যুদ্ধেও জেতা যায় না’ এই গানে আমার সবচেয়ে ভালোলাগে ‘একা মেয়েটার নরম গালের পাশে
প্রহরীর মতো রাত জাগে ভালোবাসা’ এই অসম্ভব
সুন্দর দৃশ্যায়ণটি।
ইদানীংকালে যাঁরা রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইছেন তাঁদের মধ্যে যে
কয়েকজনের গানে সত্যিকার অনুভূতিটা পাওয়া যায়, অর্থাৎ রবীন্দ্রসঙ্গীত বলে শোনা যায়,
সুমন তাঁদের অন্যতম। যদিও ‘সুমনের
গান’ শুনতে গিয়ে একের পর এক
রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে ঠিক ভালোলাগছিল না। আর ভালোলাগে না সুমনের মুখে রাজনীতির
কথা। যখন সুমন কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না, তখন যেটা মানাত, এখন সেটা মানায়
না। তৃণমূল সমর্থক সুমন যখন কেন্দ্রের কাজের সমালোচনা করেন, মনে হয় চালুনি বলে
সূঁচ তোর পিছনে কেন ছ্যাঁদা? তাও সমালোচনার বিষয় কেন পান্নালালের নামে কোথাও কিছু
হয়নি? সে তো কতজনের জন্যই কতকিছু হয়নি। পান্নালাল তো গান গেয়েছিলেন, আর অবলা বসুর মতো
ব্যক্তিত্ত্ব যিনি সারাজীবন বাংলার মেয়েদের শিক্ষার জন্য কত কাজ করে গেছেন, তার
স্বীকৃতি বাঙালিই দেয়নি, না এপার বাংলা, না ওপার বাংলা। পান্নালালের চেয়ে আরও অনেক
সাম্প্রতিক বিষয় ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাই যদি করতে হয়, তার জন্য। আমার মনে
হয়, গান আর ব্যক্তিগত রাজনীতিকে সুমন যত আলাদা রাখবেন শ্রোতাদের জন্য ততোই মঙ্গল।
আমি আগে কম্যুনিস্ট ছিলাম - একথা তাঁর গানের সঙ্গে খাপ খায় না। আমার তো মনে হয়
এখনও সুমনের গানের একটা বড় অংশের শ্রোতাই বাম মনস্ক, এবং সুমন নিজেও তাই। নাহলে ওই
গান লেখা বা গাওয়া যায় না। আমি কিন্তু বামপন্থী বলিনি। বামমনস্ক এবং বামপন্থীর
মধ্যে তফাত আছে।
সবমিলিয়ে বেশ ভালোলাগল। যদিও বিরতির পর দ্বিতীয় পর্বে গানে
গানে মিশ্রণ বা রবীন্দ্রসঙ্গীত আর একটু কম হলে ভালো হত। এমন কী তার বদলে কিছু
পুরোনো অন্য গান গাইলেও চলত। তবে সুমনের অনুষ্ঠান মানুষ দেখতে যায় বা যাবে,
শুধুমাত্র ‘সুমনের গান’ শুনবার জন্যই। এই কথাটা মাথায় রাখলে অনুষ্ঠান
আরও আকর্ষণীয় হবে।
দীর্ঘজীবী হোন সুমন। আমরা আরও নতুন নতুন গানে কাশির দমক থামলে
বাঁচতে ভালোবাসার স্বপ্ন দেখতে থাকি।
Subscribe to:
Posts (Atom)