Sunday, May 29, 2016

ঈশ্বর

কেউ আমার কথা শুনছে। নিঃশব্দে শুনেই যাচ্ছে। কোনও মন্তব্য করছে না, কোনও প্রতিবাদ তো দূরের কথা। আমাকে সংশোধন করার চেষ্টাও করছে না। অথচ একবারও মেনে নিচ্ছে না যে আমার সবটাই ঠিক। শুধু শুনেই যাচ্ছে আমার শব্দের নিঃশব্দ উত্থানপতন।

এই গভীর নিঃশব্দ শ্রোতারই নাম ঈশ্বর।

Thursday, May 26, 2016

আনফিনিসড পোট্রেট

ছোটবেলা থেকে সবসময় এই স্বপ্নটা পেরোতে চেয়েছি। অন্ধকারের মধ্যে শুধু পাল্লাহীন একটা দরজার ফ্রেম যার অন্যপাশটা অন্ধকার। প্রতিবারই ওপাশটায় পা দিয়ে ক্রমশ অতল অন্ধকারে নেমে গেছি। এইসময়েই ঘুমটা ভেঙে যেত আর বুঝতাম ওটা নিছক স্বপ্ন। অথচ কোথাও একটা হয়ত আশা থাকত কোনদিন ওপাশটায় আলো থাকবে। ছোটবেলায় বোধহয় এভাবে কখনও ভাবিনি। ছোটবেলায় স্বপ্নটা দেখতেই চাইতাম না। অথচ একেকসময়ে প্রতি রাতেই দেখতাম বা ঘুমিয়ে পড়লেই। স্বপ্নটাকে বেশ ভয়ই পেতাম একটা সময়। অথচ আমাকে দেখতেই হত। বেশ বড় বয়স পর্যন্তই দেখেছি, হয়ত কলেজ জীবনেও। তারপর অনেকদিন আর দেখিনা।

সেদিন আগাথা ক্রিস্টির একটা উপন্যাস পড়ছিলাম। গোয়েন্দা কাহিনি নয়। মেরি ওয়েস্টম্যাকট ছদ্মনামে যে ছটি উপন্যাস লিখেছিলেন তারই একটি আনফিনিসড পোট্রেট। মূল মহিলা চরিত্রটি ছোটবেলায় একটি ভয়ের স্বপ্ন ক্রমাগত দেখার প্রসঙ্গে আবার মনে পড়ল নিজের স্বপ্নটা। মহিলাটিকে কেন্দ্র করে ঘটনা আবর্তিত হলেও হয়ত মূল চরিত্র ওই স্বপ্নটাই। ছোটবেলায় নিয়মিতই স্বপ্নে একটি গানম্যানকে তিনি দেখতে পেতেন যার একটি হাত নেই, যে রূঢ়ভাবে তার দিকে চেয়ে থাকত। একটু বড় হলে নিজের চেনা চরিত্রগুলোই অন্য স্বপ্নের মধ্যে বদলে গিয়ে কোনও একজন এক একবার গানম্যান হয়ে যেত। বড় হওয়ার পর মহিলাটি আর সেই স্বপ্নটা দেখতেন না। কিন্তু নিজের জীবনে বদলে যাওয়া মানব চরিত্রের মধ্যে স্বপ্নের সেই গানম্যানকে দেখে ভয় পেতেন। কাহিনির একেবারে শেষে যখন মহিলাটি স্বপ্নের সেই গানম্যানকে বাস্তবে সত্যি সত্যিই দেখতে পাবেন তখন প্রাথমিকভাবে আতঙ্কিত হলেও সে যে আসলে একেবারেই সাধারণ একটা মানুষ, ভয় পাওয়ার কিছুই নয়, সেইটা অনুভব করে নিজের ভয়টা কাটিয়ে উঠবেন। ঊনচল্লিশ বছর বয়সে আবার নতুন করে জীবন শুরু করবেন, যে জীবনে তাঁর ছোটবেলার সেই ভয় তাঁকে আর তাড়া করে বেড়াবে না। 

ছোট থেকেই তিনি খুবই কল্পনাপ্রবণ ছিলেন, নিজের কল্পনার সেই জগতেই থাকতে ভালোবাসতেন। কথা খুব কম বলতেন, মিশতে পারতেন না সহজে, বই পড়তে ভালোবাসতেন। একটা সময় তা কাটিয়ে উঠতে গিয়ে বাধা পান। তারপর লিখতে শুরু করেন। প্রথম লেখা প্রকাশকের কাছ থেকে ফেরত এলেও পরে আরেক প্রকাশকই ওঁকে আবিষ্কার করেন। লেখক হিসেবে কিছুটা পরিচিতিও হয়। একবার আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচে যান। হয়ত দ্বিতীয়বার করতেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল সেই গানম্যান-এর হাত থেকে সারাজীবনেও তাঁর আর নিস্তার নেই এবং এই ভয় তাড়িত জীবন তিনি আর বইতে পারছেন না। কিন্তু বাস্তবে শেষপর্যন্ত যাকে তিনি অবচেতনে ভয় পেতেন, চেতনে তাঁর কাছেই না জেনে নিজের জীবনের কথা খুলে বলেন। যে মুখ ফুটে কথাই বলত না, এক রাতেই বলে ফেলে সারা জীবনের অজস্র ঘটনা। আর তাকেই ঠিকমতো সাজিয়ে নামটাম দিয়ে লিখে ফেলেন সেই পুরুষটি যিনি শুনেছিলেন নিঃশব্দে। আসলে কখনওই মহিলাটির কথা কেউ এত মন দিয়ে এবং বাধা না দিয়ে শোনেনি। কাহিনির কথক একসময় ছবি আঁকিয়ে ছিলেন, প্রথম জীবনে যুদ্ধে তাঁর সেই হাতটি বাদ যায়, যা দিয়ে তিনি আঁকতেন। তাঁর জীবনের এটাই প্রথম লেখা বা ভিন্ন মাধ্যমে ছবি আঁকা। লেখাটি তিনি পাঠাচ্ছেন তাঁর এক বন্ধুর কাছে যিনি একজন লেখিকা।

উপন্যাসটা পড়ে মনে হল, আমিও সেই স্বপ্নটাকে পেরোতে পেরেছি কি? বোধহয়, একটু একটু করে। আসলে অবচেতনে যা মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চেতনে হয়ত তা আদপে ভয়েরই নয়। হয়ত সেই ফ্রেমহীন দরজার ওপারে অনেকটা আলোই থাকে যাকে শেষপর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়।


স্বপ্নের গানম্যান আসলে আতঙ্কের কেউ না। বাস্তবে সেই বন্ধু হয়ে ওঠে। অথচ বাস্তবের অনেক চরিত্রই যাকে বিশ্বাস করা যায়, শেষপর্যন্ত বদলে যায় গানম্যান-এ।

Tuesday, May 24, 2016

ঠিকানা

আমার একটা ঠিকানা থাক
যেখানে আমি যেকোনদিন চলে যেতে পারি।
আত্মীয়বাড়ি, অথবা বন্ধুর এমন কী নিজেরও হতে পারে।
যেখানে কড়া নাড়লে কেউ একজন দরজা খুলে খুশি হয়ে উঠবে, আমি এসেছি বলেই।
বন্ধু অথবা আপনজন বা প্রিয় মানুষ।

আমার একটা ঠিকানা থাক
যেখানে আমি যেকোনদিনই চলে যেতে পারি।
যেখানে নক্সা পাড়ের আসনে বসিয়ে, সে গরম ভাতের থালা এনে দেবে।
তারপর নিজের বিছানাটা ছেড়ে দিয়ে ঝেড়েঝুড়ে বালিস পেতে বলবে,
ঘুমোও, আমি জেগে রইলাম মাথার কাছে।

আমার একটা ঠিকানা থাক
যেখানে আমি ইচ্ছে করলে চলে যেতে পারি।
যেখানে ঘুমিয়ে পড়লেই রূপকথা বা জাদুর দেশে চলে যাব, যে গল্পের শেষটা খুব সুন্দর 
আর তাই আমার ঘুমন্ত ঠোঁটের কোণে লেগে থাকবে এক টুকরো হাসি।

আমার একটা ঠিকানা থাক
যেখানে আমি ইচ্ছে করলেই নিরুদ্দেশে যেতে পারি।
আর তাই কখনও যাব না।

Monday, May 23, 2016

বেদনার তৃতীয় দিনে

ব্যথার মহিমাময় দিক এটাই যে সে তোমাকে উঠে দাঁড়াতে শেখায়।
যেকোনওভাবেই উঠে দাঁড়াতে। ভর দিয়ে অথবা একা একাই।
প্রথমে একটু ভেবে নিতে হবে ঠিক কী ভাবে উঠে দাঁড়ালে সহনীয় হবে।
কারণ যেভাবেই হোক উঠে দাঁড়াতে হবে। ওটাই প্রাথমিক লক্ষ্য।
আর এই সহনীয় শব্দটা তখন একটু একটু করে বদলে যেতে থাকবে। অনেকটা সিঁড়ির ধাপে ধাপে ওঠার মতো। ওঠার জন্য শুধু ওপরের আর সামনের দিকের সিঁড়িই থাকে।
দাঁড়িয়ে থাকলেই তো চলে না, হেঁটে যেতেও হয় এক পা দুপা করে।
কারণ দাঁড়িয়ে থাকলে চলেনা।
হাঁটার সময় প্রথমে একটু ঝুঁকে, তারপরে ক্রমশ মাথা তুলে সোজা।
কারণ মাথা তোমাকে তুলতেই হবে। আর ঠিক তখনি ব্যথাগুলো ক্রমশ নুয়ে আসতে থাকবে বহুদিনের অভ্যেসের মতো।
যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা আবার তোমাকে নুইয়ে দিচ্ছে।
হতাশার কিছু নেই। ব্যথার মহিমাময় দিক এটাই যে সে তোমাকে আবারও উঠে দাঁড়াতে শেখাবে।

Saturday, May 21, 2016

টুকরো ভাবনা

রাজনীতি কিছু বুঝিনা। যা মনে হয় তা লিখি। তাই সব কথা সর্বজনের ভালোলাগবেনা বা পলিটিকালি কারেক্ট হবেনা সেটাই স্বাভাবিক। ইন্টেলেকচুয়াল নই। একেবারেই সাধারণ মানুষ। যা কিছু লিখি, অভিজ্ঞতা থেকে যা আহরণ করেছি তার থেকে লিখি। যা কিছু লিখি, যা শিক্ষা পেয়ে বড় হয়েছি তার থেকেই লিখি।

চিরকাল দেখে এসেছি মিথ্যাকে মা খুব ঘৃণা করত। আমিও করি। আরও যখন দেখি মিথ্যার ওপর ভিত্তি করেই যাবতীয় কিছু চলছে তখন যারপরনাই বিরক্ত এবং অসহায় লাগে। আমাদের একমাত্র সন্তান সেও একটি ডাঁহা সত্যবাদী। আর সেইজন্যই বন্ধুদের কাছে অনেকসময় মিথ্যেবাদী আখ্যা পায় আর বাড়ি এসে কান্নাকাটি করে। ওকে বলি, এখন মিথ্যে ব্যাপারটাই এত সহজ আর স্বাভাবিক যে তুই যখন সত্যি বলছিস কেউ সেটা বিশ্বাস করতে পারেনা। তারা ওভাবেই বড় হয়েছে, ওদের দোষ নেই। তুই যদি সত্যবাদী থাকতে চাস জীবনে অনেক ঘা খেতে হবে, সেভাবেই মনটাকে তৈরি কর এখন থেকে। একদিন আমাদের দুজনের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল যে, অপ্রিয় সত্য বলা উচিত না মিথ্যে। এবিষয়ে ও দেখলাম আমার সঙ্গে একমত। অপ্রিয় হলেও সত্য বলব, মিথ্যে বলব না। আমার মনে হয়, অপ্রিয় বলে আমি যদি কারোর কাছে সত্য গোপন করি আর সে যদি অন্য কারোর কাছ থেকে সেটা শোনে তাহলে সেটা তার কাছে আরও বেশিই আঘাতের হবে। তাই অপ্রিয় হলেও সত্য বলা উচিত।

তবে যেমন আদর্শ নিয়ে বাবা-মা বড় করেছিলেন, তেমন আদর্শ কিছু আর আজ খুঁজে পাইনা, তাই সে শিক্ষা দিতেও যাইনা। যুগটা স্বার্থপরের, যুগটা আত্মকেন্দ্রিকতার। যদি অন্য কিছু হও তবে পদে পদে আঘাত খাবে। এইটুকু সাবধান শুধু বারবার করি। এছাড়া আর কী বা করার আছে? ভালো হতে না বলতে পারি, খারাপ হতেও তো বলতে পারিনা একটা আপাদমস্তক ভালোমানুষকে। কেবল সাবধানটুকুই করতে পারি যে, অনেক আঘাত খাবি সেইমতো মনকে প্রস্তুত করে রাখ। কিন্তু তারপরেও সবটুকু পারে না। সেটাই তো স্বাভাবিক। সতেরো বছরে আর কতটুকু বড় হয় মানুষ? কিন্তু পরিস্থিতি এমনই যে হয়ে যেতে হয়।

নিজের জীবনে একটা জিনিস বুঝেছি, শিক্ষাটা যেদিন ভাত ডাল খাওয়ার মতো জরুরি করা যাবে, একমাত্র সেদিন কোনও পরিবর্তন সম্ভব। যারা পরিবর্তন বলতে অন্য কিছু বোঝেন এবং শিক্ষিতদের গাল দেন, আমার তাঁদের কিছু বলার নেই। তাঁরা নিজেরাই শিক্ষিত নন, এবং সেইজন্য নিজেদের আমজনতার সঙ্গে একাসনে বসিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। আমজনতার সঙ্গে একাসনে বসা তো খুব ভালো কথা। তবে তাঁদের শিক্ষিত করে একাসনে বসাই ভালো নয় কি? নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। বাবা বলতেন, তোদের আর কিছুই দিয়ে যেতে পারলাম না শিক্ষা ছাড়া। কথাটা একেবারে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। পড়াশোনাটা ইচ্ছেমতো করতে পারিনি ঠিকই, কিন্তু ভাগ্যিস,  শিক্ষাটা পেয়েছিলাম। এই শিক্ষাটা জরুরি। একটা সময় বাঙালির মধ্যে এই শিক্ষাটাই মূলধন ছিল। গ্রামের সাধারণ মানুষের ভেতর থেকেই উঠে আসতেন ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ত্বেরা। ঊনবিংশ শতক নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে আমার এ কথাই মনে হয়েছে। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে নম্র করে, ভদ্র করে।

নিজে সরকারি শিক্ষায় বড় হয়ে বুঝেছি সে শিক্ষা অন্তঃসারশূন্য। তাই মেয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষা মাধ্যমের কাছ থেকে শিক্ষা কেনা ছাড়া অন্য উপায় দেখিনি। আর্থিক কারণে খুব ছোটবেলায় ওকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে দিতে পারিনি। একটু বড় হওয়ার পর থেকে খুব সাধারণ মানের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলেই পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যে তিনটি বোর্ডের মাধ্যমে স্কুলশিক্ষা হয় তারমধ্যে সবথেকে কঠিন মনে হয়েছে আই সি এস সি-কে। তুলনায় সি বি এস সি এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডের সিলেবাস অনেক কম এবং সহজ। তবে আই সি এস সি বোর্ডে তুমুল ফাঁকিবাজ ছেলেটিও বাধ্য হয়ে যেটুকু জানে, তা অন্য বোর্ডের খুব মনযোগী ছাত্রটিও হয়ত জানেনা। হয়ত বলার অর্থ অনেকেই সিলেবাসের বাইরেও প্রচুর পড়াশোনা করে। সে তো জানবেই। আমার মেয়ের যেমন পড়াশোনা একেবারেই ভালোলাগে না। কিন্তু অধিকতর সহজ সি বি এস সি বোর্ডে যেতে সে কিছুতেই রাজি হয়নি ইলেভেনে ওদের নাকি সেক্সপিয়ার নেই। সেক্সপিয়ার না থাকলে আর ইংরেজি পড়ে লাভ কি? আমাদের সময় ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডে নম্বরই উঠত না। সেইসময়ে কলকাতার স্কুলগুলিই মূলতঃ প্রথম দিককার স্থানগুলো দখল করত। হঠাৎ রাতারাতি যেন চিত্রটা বদলে গেল। মফঃস্বল থেকেই অধিকাংশ ভালো রেজাল্ট এবং ঝুড়ি ঝুড়ি নম্বর! কিন্তু তারপরে তাদের আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না। আসলে শিক্ষা সবসময়েই রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সেটা আমাদের কেরালা রাজ্য বা প্রতিবেশি ছোট্ট দেশ ভুটানকে দেখলে বোঝা যায়। 

কিন্তু শিক্ষায় যখন রাজনীতির রঙ লাগে তখন তার চেয়ে খারাপ আর কিছু হয় না। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ পশ্চিমবঙ্গ। আগামী দিনে একথা আরওই বোঝা যাবে। আর এর শিকার হয় জেনারেশনের পর জেনারেশন সাধারণ মানুষ। তৈরি হয় একটি সম্পূর্ণ অশিক্ষিত জাতি। এতটাই অশিক্ষিত যে শিক্ষার অভাব তার মনে লজ্জা নয়, গর্ব তৈরি করে। শিক্ষার অভাব তাকে ঈর্ষায় নীল করে দেয় শিক্ষিতদের প্রতি। এই অশিক্ষাই জন্ম দেয় মিথ্যা, স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, ধর্মান্ধতার মতো বৈশিষ্ট্যগুলির। আর একবার অশিক্ষা মজ্জায় ঢুকে গেলে তাকে শিক্ষিত করা খুব কঠিন। শিক্ষাকে গ্রহণ করার মতো মানসিকতা আর থাকে না। শিক্ষা তখন তার কাছে একটি বর্জনীয় পদার্থ। আর এরই সুযোগ নেয় আবার রাজনীতি। এরা যত বেশি জানে, ততো কম মানে। এটা বড় সত্যি কথা। অশিক্ষিতকে সহজে বোঝানো যায়, সহজে ভোলানো যায়, সহজে অধীনত করা যায়। শিক্ষা বড় শক্ত জিনিস। হজম না করতে পারলেই বদহজম হয়ে যায়। নিজেকে শিক্ষিত বলে দাবী করে যেসব লেখাপড়া জানা অশিক্ষিতেরা তারা আরও ভয়ঙ্কর সমাজের পক্ষে।


ভেবে দেখেছি রাজনীতি বড় বিশ্রী ব্যাপার। ওর ধারেকাছে আমার না ঘেঁষাই ভালো। বুঝিও না ঠিক ওটা খায় না মাথায় দেয়। আমি বরং ঊনবিংশ শতকেই ফিরি। সেই সময়েও সমাজে নানা কিছু নেতিবাচক দিক ছিল। তবু বাঙলা এবং বাঙালির স্বর্ণযুগ সেটা শিক্ষা এবং আদর্শে। আমার ওখানে নিজেকে অন্তত ইনসিকিওরড লাগেনা।

Friday, May 20, 2016

এই লেখার নাম মেরুদণ্ড ছাড়া যে কোনও কিছুই

আমি মেরুদণ্ড নিয়ে লিখিনা।

জীববিজ্ঞানে একসময়ে পড়েছিলাম মেরুদণ্ড মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তখন লিখতেই হত।

ইদানীং মেরুদণ্ড নিয়ে অনেক কিছু পড়ি। বায়োলজিতে নয়, কাব্যে। কবিরা লেখেন আর তাঁদের স্তাবকেরা নিজেদের মেরুদণ্ডহীন পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে বাহবা দেন। কবিদের মেরুদণ্ড থাকে কিনা বা থাকলেও তা কেমন আমার জানা নেই। 

আমার নিজের মেরুদণ্ডের অসুখ দীর্ঘদিনের। আর তাও বারান্দায় সোজা হয়ে দাঁড়ালে আমি কোনও মেরুদণ্ডওলা জীব দেখতে পাইনা। 

আমি আর যাইহোক মেরুদণ্ড নিয়ে লিখিনা।

কেন ভোট দেব?

এইসবই আমার শোনা কথা, তবু মনে প্রশ্ন জাগে। শুনেছি বাম আমলে পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষের বিঘে বিঘে জমি সিপিএম দখল করেছিল। তাই তারা বা তাদের উত্তর পুরুষেরা কখনওই আর সিপিএম-কে ভোট দেন না। মানে দেবেনই বা কেন? তাঁদের রাগের তো সঙ্গত কারণ আছে। কখনও যদি সিপিএম-কে ভোট দিলে তা পশ্চিমবঙ্গের ভালো হয় তাও দেবেন না। অবশ্যই ব্যক্তিস্বার্থ আগে। সেটাই তো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মূল সূত্র।

আর আমরা যাদের পূর্বপুরুষেরা ভিটে-মাটি উচ্ছেদ হয়ে এক বাংলা থেকে অপর বাংলায় এসেছি, আমাদের অনেকেরই ওরকম বিঘে বিঘে জমি ছিল ও বাংলায়। শুনেছি আমার দিদা ডঃ বেণীমাধব বড়ুয়ার মেয়ে, তাঁকেও বোরখা পরে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল। অথচ এখনও বোধহয় আমার দাদুদের সেই মুৎসুদ্দি পাড়া রয়েছে ওখানে। আমার ঠাকুরদাদাদের জমিদারী ছিল সে কথা না বলাই ভালো, কারণ পশ্চিমবঙ্গে একটা বিশ্রী ব্যঙ্গ আছে এই বাঙালদের নিয়ে যে তারা সকলেই নাকি দাবি করে যে তাদের পূর্বপুরুষ ওপার বাঙলায় জমিদার ছিল।

আমরা এখনও অধিকাংশই ভিটে-মাটির মালিক হয়ে উঠতে পারিনি বাম-ডান কোনও আমলেই। এখনও আমরা এই বাঙলায় চিহ্নিত এবং কিছুটা ব্রাত্য 'বাঙাল' বলে। হয়ত আমাদের মধ্যে সেটা কিছুটা গর্বও কাজ করে কারোর কারোর। কিন্তু আমি ভাবি, আমরা কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব? আমাদের তো শুধু ভিটে-মাটিই যায়নি, আমাদের শিকড় চলে গেছে। আমরা ওই বাংলায় 'পশ্চিমবঙ্গের লোক' আর এই বাংলায় 'বাঙাল'

আমি কেন ভোট দেব কাউকে?