Monday, August 3, 2015

সার্ধ শতবর্ষে অবলা বসু - নারী শিক্ষা সমিতির অনুষ্ঠান সূচি

শুধু জগদীশচন্দ্র বসুর স্ত্রী হিসেবে নন, অবলা বসু (১৮৬৫-১৯৫১) স্মরণীয় নারীশিক্ষার প্রসারে অবদানের জন্য। অবলা বেথুন থেকে এফ এ পাশ করে ডাক্তারি পড়তে যান মাদ্রাজে। দুই বছর পরই বিয়ে হয় তাঁর। এক সময় ব্রাহ্মবালিকা শিক্ষালয়ের সম্পাদিকা ছিলেন। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বিদ্যাসাগর বাণীভবন। নারীশিক্ষার প্রসার ও বিধবা মহিলাদের অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করতে গড়ে তুলেছিলেন নারীশিক্ষা সমিতি। ৮৮টি প্রাথমিক স্কুল ও ১৪টি বয়স্ক-শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলেন। প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং-এর প্রবক্তা লেডি অবলা বসুই। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলি এখনও সক্রিয়। তাঁর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর নারীশিক্ষা সমিতিআয়োজন করেছিল নানা অনুষ্ঠান। সমাপ্তি অনুষ্ঠান বিদ্যাসাগর বাণীভবনে ৭-৮ আগস্ট।


মাননীয় মহাশয়/ মহাশয়া

আগামী ৭ ও ৮ আগস্ট ২০১৫, নারী শিক্ষা সমিতির প্রতিষ্ঠাত্রী লেডি অবলা বসুর সার্ধ শতবর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে সমিতির প্রেক্ষাগৃহে।

অনুষ্ঠান সূচিঃ

৭ আগস্ট – দুপুর ১টা

ভাষণ –

লেডি অবলা বসু ও ভগিনী নিবেদিতা – বক্তা অধ্যাপক প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায়
ভ্রমণ কাহিনিকার লেডি অবলা বসু – বক্তা শ্রীমতি দময়ন্তী দাশগুপ্ত

৮ আগস্ট – সকাল ১০টা

মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ডঃ অসীম কৃষ্ণ দে, সভাপতি, নারী শিক্ষা সমিতি
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অংশগ্রহণে সকল বিভাগের ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।


আপনাদের উপস্থিতি একান্ত কাম্য।

ধন্যবাদান্তে,
নারী শিক্ষা সমিতি
বিদ্যাসাগর বাণীভবন,
কলকাতা - ৯


Sunday, August 2, 2015

তোমার নাম জানিনে, সুর জানি


গ্র্যাজুয়েশন শেষে হস্টেলের পাট চুকিয়ে একবছর বাড়িতেই ছিলাম। নানা কারণে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করে ওঠা হয়নি সেইসময়ে। বাড়ি থেকে একঘন্টার দূরত্বে সফটওয়ারের একটা ডিপ্লোমা কোর্স করতে যেতাম। রোজ একই সময়ে বাড়ি থেকে বেরোতাম। একই বাসে উঠতাম। কিছুদিন পর লক্ষ্য করলাম এক তরুণ রোজ আমার জন্য জানলার ধারে তার পাশে সিট রেখে দেয়। সে আমার আগে ওঠে আর পরে নামে। ধীরে ধীরে আলাপ হল। রোজ নানা বিষয়ে গল্প করতে করতে একঘন্টার রাস্তা কোথা দিয়ে দিব্যি কেটে যায়। আন্দাজ করেছিলাম ভদ্রলোক বোধহয় চাকরি করেন। একদিন নাম ধাম জিজ্ঞাসা করতে বললেন, তোমার কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে। বললাম, বলুন। উনি বললেন, আমরা কেউ কারো নাম, পরিচয়, কোথায় থাকে এসব কিচ্ছু জিজ্ঞাসা করব না। আমি এমনিতেই বেশ রোমান্টিক। বেশ লাগলো প্রস্তাবটা। আর কোনোদিন জানতে চাইনি। উনিও কোনোদিন আমাকে কোনো ব্যক্তিগত প্রশ্ন করেননি।

কিন্তু রোজই এই পথযাত্রাটুকুর জন্য সকাল থেকে মনটা উৎসুক হয়ে থাকত। যেদিন নিজে কোনো কারণে যেতে পারতাম না বা উনি আসতেন না, সেদিন একটু মনখারাপই লাগত। এছাড়া কিন্তু অন্য কোনোসময় ওনার সঙ্গে দেখা হত না। কেবল একদিন বাদে। সেদিন উনি আমাকে বেশ একটা বিপদ থেকেই বাঁচিয়েছিলেন। মাঝদুপুরে যখন কম্পিউটার সেন্টার থেকে বেরোতাম, জায়গাটা বেশ নির্জনই থাকত। একদিন লক্ষ্য করলাম একজন আমার পিছু নিয়েছে। লোকটির চোখমুখ যেরকম, আমার ওই বয়সে যথেষ্ট আতঙ্কিত হওয়ার মতোই। হয়েওছিলাম। একা প্রায় দৌড়াচ্ছি। বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছেও দেখি কেউ নেই। কী করব ভাবছি। আমার পিছনে যে লোকটা আসছিল সে কিছুটা বয়স্ক তাই গতিতে আমি এগিয়েছি। হঠাৎ দেখি রাস্তার ওপা্রে প্রায় বিপদতারণ মধুসূদনের মতো আমার সেই বন্ধুটি হাজির। চট করে রাস্তা পার হয়ে গল্প জুড়ে দিলাম। আড্ডায় আড্ডায় বাস এসে গেল। তিনিও আমাকে রাস্তা পেরিয়ে বাসে তুলে দিলেন। না, ওনাকে আমি বলিনি যে বিপদে পড়েছিলাম।

পরের বছর বিয়ে করে কলকাতায় চলে আসি। আর কখনোই সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। মুখটাও এখন একেবারে ভুলে গেছি। অর্থাৎ দেখা হলেও চিনতে পারব না আর কোনোদিনও। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে পড়ে তাঁর কথা নানা সময়ে, যখন দেখি মানুষ মানুষের কত সহজে শত্রু  হয়, কত সহজে ভুল বোঝে। ভাবে লাভ-ক্ষতির বিনিময় না থাকলে বুঝি বন্ধুত্ব হয় না।

আসলে কোনো মানুষই হারায় না এ জীবনে, রাখতে চাইলে রয়ে যায় কোথাও না কোথাও।


আচ্ছা, আমাকেও কি মনে আছে তাঁর? মাঝে মাঝে একথাও মনে হয় বৈকি।

Friday, July 31, 2015

সাম্রাজ্যবাদ বলছি, তোমরা শোনো


পৃথিবীতে কালো চামড়ার মানুষ বড় বেড়ে গেছে।
অথচ আমরাই তো সাদা, সুন্দর, আমরাই শক্তিমান।
পৃথিবীর দখল তাই থাকবে আমাদেরই হাতে।
জমির দখল, অর্থের দখল, সুখ
এমনকী শান্তিও থাকবে আমাদেরই হাতের মুঠোয়।
অতএব ওদের মেরে ফেলো।কিন্তু এমন করে মেরো
যাতে আমাদের হাতে কোনো রক্তের দাগ না লেগে থাকে,
এমন করে মেরো যাতে আমাদের কাপড়ে না লাগে রক্তের ছিটে।
যাকে বলে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা।

এই নাও নতুন অস্ত্র - সন্ত্রাস।
তাবলে পুরোনো অস্ত্রগুলোও রেখো, কাজে লাগবে -
লোভ, মগজধোলাই আর বিভেদ।
ওই শেষটিই হল আসল -
সবরকমভাবে ওটিকে সার্থক কর।
ধর্মে এবং জিরাফে থুড়ি লোভে।
ওদের কয়েকজনকে বেশ সুবিধা দাও।
যাতে আমাদের পায়ের তলায় বসে
বাকীদের ছোটলোক বলে ঘৃণা করতে পারে।
আর ওই কী আছে ওদের ধর্মটর্ম,
লাগিয়ে দাও দুদলে পাঞ্জা লড়াই।
আমরা গ্যালারিতে বসে বেশ ভালো করে উপভোগ করব।
সমর্থন তো করব নিশ্চয়, নাহলে জমে নাকি?
একদলকে প্রকাশ্যে আর অন্যদলকে গোপনে - নারদ নারদ।

তারপর ওরা নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি করে
এ ওকে বোমা মেরে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সব একেবারে রাতারাতি সাফ।
দরকার হলে শান্তির জন্য আমরাও কোথাও কোথাও একটু
বড় বোমটোম ফেলব, কিছু মানুষকে নিঃশব্দে সরিয়ে দেব,
তবে সেসব নিয়ে ভাবার কিছু নেই, ও ব্যক্তিগত ব্যাপার।
শাসন করার জন্য তো কিছু বোকা, বাধ্য, আর বংশদবদ রয়েই যাবে।
তারপরে আমাদের একছত্র বাজার, সাম্রাজ্য, সুখ, শান্তি...।

Thursday, July 30, 2015

হত্যা

হত্যাকে হত্যাই বলি আমি
সে রাষ্ট্রই করুক অথবা মানুষ।
অন্ন আর শিক্ষা দেওয়ার কথা ছিল যার -
কথা ছিল দেবে আশ্রয় আর শ্রমের মূল্য।
তার বদলে মৃত্যু দেবে সে কোন অধিকারে?

বাংলাভাষা - আমার মা

আমি ঠিক জানিনা আজকাল
তোকে বেশি ভালোবাসি না বাংলা ভাষাকে?
জানি তোর কলমের প্রতিটি রক্তবিন্দুর অনুপ্রেরণা একমাত্র আমি।
অন্য কোন নারীকে ভুল বানানে অনুপ্রেরণা বলে ডাকলে
খুব রাগ হয়। বাংলা ভাষা না আমার কার জন্য জানিনা অবশ্য।
কতবার তোকে বলেছি, '', '', '', '
এমন অনেক সাধারণ উচ্চারণে ভুল আছে তোর,
এখনো শিখিসই নি চন্দ্রবিন্দু 
কোথায় দেওয়া যায় আর কোথায় যায় না।
অথচ জেদ করে ভুলটাই লিখবি। যেন ছোটবেলার
সেই মায়ের বারণ শুনবনা গোছের নাছোড়বান্দা বায়না।
মা কি কারো চিরকাল থাকে রে?
কিন্তু মায়ের কথা ভোলাও যায় না দেখিস।
বাংলা ভাষাও যে আমাদের মা।

Wednesday, July 29, 2015

সম্পর্ক

মানুষে মানুষে সম্পর্ক অনেকটা চৌরাশিয়ার বাঁশির মতো। যার সঙ্গে যে সুরে বাজে যখন। বাস্তবে কিন্তু মানুষ সম্পর্ককে হয় আছে বলে গায়ে মেখে থাকতে চায়, নয় নেই বলে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চায়। অথচ একেকটা সম্পর্কে কখনো ভেসে থাকা যায়, কখনোবা ডুবে যাওয়া যায়...। এভাবেই সম্পর্কেরা ছুঁয়ে না ছুঁয়েও বেঁচে থাকতে পারে। শুধু যদি মানুষ সেই বিশ্বাসটা রাখে পরস্পরের প্রতি। অনেকটা সেই অবন ঠাকুরের মনের সবুজ খাতার মতো। আসলে কেউ হারায় না।

সম্পর্ক মানে ছুঁয়ে না ছুঁয়ে বাঁচা।
হিসেবের কড়ি না গুনেই।
হয়তোবা জমা-খরচ মিলবে না কিছুই।
হয়তোবা সবটাই খরচ -
জমার খাতায় নিরেট একটা শূন্য।
তাতেই বা কী যায় আসে?
এতো আর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স নয় যে
না থাকলে সর্বনাশ।
এতো থাকা বা না থাকা দুটোই সর্বনাশ,
অথবা নতুন করে বিপদের কোনো আশঙ্কাই নেই আর।
আর এইসব না ভেবে কাটালে আরো ভালো -
কারণ ভাবতে গেলে জীবনটাই কখন যাবে ফুরিয়ে,
তখন এমনিও শূন্য ছাড়া উভয়পক্ষের আর কীই বা থাকবে হাতে?

পিছন ফিরে তো কেউ তাকায় না

কলকাতার রাস্তায় মাঝে মাঝে দেখি তোকে -
মেট্রোয় হয়তো ব্যস্ত কথোপকথনে;
কখনোবা ট্যাক্সির পিছনের সিটে
খেয়াল করতে না করতেই ক্রসিং পেরিয়ে গেছিস।
কখনো দেখেছি পাশের বাসের জানলাটা
আমার জানলার পাশ দিয়ে ডানা মেলে চলে গেছে যখন -
হাতে বই, অথচ চোখে অন্যমনস্ক দৃষ্টি।
মনে মনে ভেবেছি ঠিক স্টপেজে নামলে হয়!

ইদানীং কলকাতার রাস্তায় মাঝে মাঝেই তোকে দেখতে পাই -
চৈত্রের বিকেলে যখন লাল পলাশ বা কৃষ্ণচূড়ার আগুন
চোখে পড়ে যায় কংক্রিটের এই শহরের পথে।
বৃষ্টিতে দেখেছি লাল-নীল ছাতাদের ভীড়ে,
অথবা মনকেমন করা জুঁইয়ের সুবাসে।
শরতে-হেমন্তে-শীতে-বসন্তে ঋতুর মতোই
বদলাতে থাকিস তুই কলকাতার পথে পথে।
আর আমি তোকে দেখতে দেখতে একলা পেরিয়ে যাই ক্রসিংগুলো।

শেষ যেদিন চোখে পড়ল সেদিন ঠিক আমার আগে আগেই হাঁটছিলি তুই -
একা, মাথাটা ঝুঁকিয়ে, পাটা যেন টেনে টেনে -
যেন কী একটা অসহনীয় ভার চেপে বসেছে শরীরে,
যেন গভীর এক বেদনা গলা টিপে ধরেছে তোর;
শেষ বিকেলের রাঙা আলো পড়ছিল ক্লান্ত কপালে, চোখের পাতায়, চিবুকে।
কোনোদিনই পিছু ডাকিনি তোকে, সেদিনও ডাকলাম না।
সব মানুষকেই নিজের ক্রুশ তো নিজেকেই বয়ে নিয়ে যেতে হয়।
সকলেরই কষ্ট হয়।তবু যে সামনে থাকে তার ব্যথা বুঝতে পারে অন্যে।

আসলে পিছন ফিরে তো কেউ তাকায় না।