Friday, December 16, 2016

সংক্ষিপ্তসার সংকলন

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা - সংক্ষিপ্তসার সংকলন

https://sites.google.com/site/nsbdsc/jatiya-alocanacakra-2/6-sanksiptasara-sankalana

Tuesday, December 6, 2016

শীত

মাঝে মাঝে শব্দেরা চুপ করে যায়।/ ওম চায়।/  অক্ষর খুঁজে ফেরে না-উচ্চারিত বর্ণমালার উষ্ণতা।

এখন শীতের সময়।

সকাল

স্বপ্নের ভোর থেকে প্রতিদিন দু-একটি পাতা ঝরে যায়...।

Monday, December 5, 2016

সময়ের দাম!

কাকটা ভারি অবাক হয়ে বলল,তোমাদের দেশে সময়ের দাম নেই বুঝি?
আমি বললাম,সময়ের দাম কিরকম?
কাক বলল,এখানে কদিন থাকতে,তা হলে বুঝতে। আমাদের বাজারে সময় এখন ভয়ানক মাগ্যি,এতটুকু বাজে খরচ করবার জো নেই। এই তো কদিন খেটেখুটে চুরিচামারি করে খানিকটে সময় জমিয়েছিলাম,তাও তোমার সঙ্গে তর্ক করতে অর্ধেক খরচ হয়ে গেল। বলে সে আবার হিসেব করতে লাগল।
আর আমি ব্যাঙ্ক-এর লাইনে দাঁড়িয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভাবতে লাগলাম, সময়ের দাম কাকে বলে? এই যে এতগুলো লোক কাজ-কম্ম, অফিস-কাছাড়ি চুলোয় তুলে সকাল থেকে রাত্তির এই এটিএম থেকে সেই এটিএম, ব্যাঙ্ক থেকে পোস্টাফিস ছুটে বেড়াচ্ছে, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইন দিচ্ছে তাদের কারোর কি সময়ের দাম নেই? যে সাধারণ মানুষগুলোর এই টাকার চক্করে কাজ চলে গেল সেই কাজের সময়গুলোর দাম কে দেবে? ওই যে লোকগুলো লাইন দিতে গিয়ে ঝুপ ঝুপ করে মরে যাচ্ছে ওদের জীবনের দাম?
কিছুতেই আর সময়ের জমা-খরচের হিসেবটা মেলাতে পারছি না। কাক্কেশ্বরকেও আজকাল আর দেখা যাচ্ছে না বিশেষ। নিশ্চয় নতুন দুহাজার টাকার ভাঙতি না পেয়ে বাজারি কাগজে পোস্ট এডিটোরিয়াল লিখছে পেন্সিল ঠুকে।
ভাবছিলাম একবার গেছো দাদার কাছেই নাহয় যাব। ভাবতে ভাবতেই শুনি তিনি ভিক্ষের ঝুলি নিয়ে গিয়েছেন জাপান। তারপর সেখান থেকে ফিরে...
নাহ্‌, কোথাও কোনও লাইনে এখনও দাদার দেখা পাইনি। দাঁড়িয়ে আছি তো দাঁড়িয়েই আছি। ওদিকে হুসহুস করে সময় চলে যাচ্ছে...

পথে চলে যেতে যেতে

এক কাঁধের ওপরে গামছার ভার। লাল, নীল, সবুজ নানা রঙ, নানান রকমের ডোরাকাটা। শান্তিপুরী, বাঁকুড়া কত জায়গার নাম তার। গামছার রঙ পেরিয়ে দৃষ্টি আটকায় মানুষটির মুখে। অন্ধ!

রাত বেড়েছে। রেলগাড়ির কামরায় যাত্রীর সংখ্যা শেষ গন্তব্য ক্রমশ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কমছে। বিক্রেতার ভিড়ও তেমন নেই। এক যাত্রী গামছা দেখে। নানা রঙের ছোট ছোট চৌখুপী গামছা সরিয়ে একটা নীল গামছায় নজর আটকেছে তার। রঙটি ভালো লেগেছে, নেড়েচেড়ে দেখে। বিক্রেতাও যেন আপন দৃষ্টিতে দেখতে পান বিক্রেয় পণ্যটিকে ভালোলেগে যাওয়া সেই মুখটি। তাঁর মুখেও ছড়িয়ে পড়ে পরিতৃপ্তির ঈষৎ রেশ। ওপাশ থেকে আরেকজন দাম জানতে চান। কাঁধের ওপর রাখা নির্দিষ্ট গামছায় হাত রাখলেই বিক্রেতা গামছার নাম আর দাম বলতে থাকেন। আশি টাকা, একশো টাকা, দুশো টাকা আরও দামীও রয়েছে। কোনটা মেলে দেখান। জোড়া লাগান রয়েছে লম্বা করে ছড়িয়ে ধরেন দুহাতে। আমি দেখতে থাকি চলমান জীবনের গল্পের এক চরিত্রকে।

প্রথম ও একমাত্র ক্রেতাটি ইতিমধ্যে মনস্থির করে ফেলেছেন। একশো দশ টাকার গামছা রফা হয়েছে একশো টাকায়। নিপুণ দক্ষতায় জোড়া গামছা হাতের টানে দুভাগ করে একটা গামছা ক্রেতার হাতে তুলে দেন বিক্রেতা। যাত্রীটিও দাম মিটিয়ে ভারী খুশি হয়ে ভাঁজ করতে থাকেন ব্যাগে ঢুকিয়ে নেবেন বলে। গামছাওলা এগিয়ে গেলে পিছনের যাত্রীটিকে নিজের পুরোনো আর নতুন গামছা পাশাপাশি রেখে কেমন সস্তায় ভালো গামছা পাওয়া গেছে, কেমন সুন্দর রঙ বোঝাতে উদ্যোগী হয়েও তাঁর উৎসাহের অভাবে দুটিকেই ব্যাগে ভরে প্রসন্নমুখে সিটে বসে পড়েন।


আমার সম্বিত ভাঙে। গামছাওলা এগিয়ে গিয়েছেন অনেকটা। আমার গামছার কোনও প্রয়োজন ছিলনা সত্যি। কিন্তু একটা কিনলে কি এমন ক্ষতি হত?

Tuesday, November 29, 2016

ফের কাক্কেশ্বর উবাচ

কাক জিজ্ঞাসা করল, কালোকে অর্ধেক করলে কী হয়?
আমি বললাম, কালোকে অর্ধেক করলে আর কী হবে আধখানা কালো হবে!
কাক মাথা নেড়ে বলল, হলো না, হলো না, সাদা।
আমি বললাম, ধুত, তাই আবার হয় নাকি? আমার কালো রঙ পেন্সিল ভেঙে গেলে তো সেটা কালোই থাকে, দুটো অর্ধেক কালো।
পেন্সিল নয়, পেন্সিল নয় টাকা, কালো টাকা। তোমার কালো টাকা আছে? কাক আবারও জিজ্ঞাসা করে।
আমি বললাম, না, কালো রঙের টাকা হয় নাকি? আমার কাছে তো একটাও নেই! গোলাপী রঙের দুটো দুহাজার টাকার নোট রয়েছে যেটা কোথাও ভাঙিয়ে দিচ্ছে না। খুচরো হবে নাকি?
কাক বিরক্ত হয়ে একটানা বলে গেল, কালো টাকা মানে ব্ল্যাক মানি তাও জানোনা? খুচরো? খুচরো মোটেও এখন সহজ কথা নয়। দশ টাকার কয়েন চাও তো গোটাকতক দিতে পারি কেউ নিচ্ছেনা। তোমার বয়স কত? ওজন? কালো টাকা নেই যদি তবে লাইনে দাঁড়াওনি যে বড়? তুমি দেখেছ আম্বানী, জয়ললিতা, মোদী, মমতা কাউকে লাইনে দাঁড়াতে?
মাথা নেড়ে ভয়ে ভয়ে বললাম, কই না তো, দেখিনি। কোনও মিডিয়া খবর করেনি। বয়স? আমার বয়স তো তেতাল্লিশ বছর আর ওজন সত্তর কেজি। কিন্তু আমি তো এ টি এম থেকে টাকা তুলতেই পারিনা।
কাক হেঁকে বলল, বয়স সত্তর কেজি, ওজন তেতাল্লিশ বছর, দিব্যি ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপ করতে পার আর টাকা তুলতে পারনা? বললেই হল? তুমি তো আর গরীব নও যে ফস করে পঞ্চাশ দিনের আগেই মরে যাবে! তাহলে হয় তুমি দেশদ্রোহী নাহলে সিপিএম।
আমি ভীষণ চটে গিয়ে বললাম, একদম বাজে কথা বলবে না। আমার বয়স মোটেও সত্তর কেজি নয়।
কাক একটুও পাত্তা না দিয়ে পেন্সিলটা দুবার ঠক ঠক করে ঠুকে ঘাড় বেঁকিয়ে একটুক্ষণ কী ভেবে নিয়ে জিজ্ঞাসা করল, পেটিএম জানো? ক্রেডিট কার্ড? ক্যাশলেস মানি?
আমি এবার ভারী খুশি হয়ে বললাম, পেটিএম তো? কেন জানব না? ওই যে মোদীর ছবি দিয়ে কাগজে কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল।
কাক বলল, আরে বিজ্ঞাপন চাও বললেই হয়। এই নাও বলে একতাড়া কাগজ আমার হাতে ধরিয়ে দিল।
দেখি কাগজের গায়ে বড় বড় করে লেখা - শ্রী শ্রী ভুষুন্ডি কাগায় নম। সাউথ ব্লক, সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং...
এখানে হিসাবী বেহিসাবী সমস্ত কালো টাকা সাদা করিয়া থাকা হয়।
জমা টাকা কালো তাহা নিজে জানাইলে কর ৩০% জরিমানা ১০% সারচার্জ করের ৩৩% অর্থাৎ সবমিলিয়ে হল গিয়ে ৫০%। বাকি টাকা চারবছর গরিব কল্যাণ প্রকল্পে কাজে লাগবে।
জমা দেওয়া টাকা কালো বলে ধরা পড়লে...ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমার তো মাথাফাতা সব গুলিয়ে গেল।
বললাম, আর যাদের টাকা কালো নয়, যারা টাকা তুলতে পারছে না, টাকা পেয়েও ভাঙাতে পারছে না, যারা টাকা এখনও বদলাতে পারলনা...?
কাক ভারী বিরক্ত হয়ে বলল, তাও জানোনা? এরা হল হিসেবের বাইরে, খরচের খাতায়। এদের জমা টাকায় সরকারের স্বাচ্ছল্য বাড়ল, কর্পোরেট সংস্থাগুলোকে ঋণ দেওয়ার মতো পুঁজি বাড়ল। সকাল থেকে বকবক করে দিলে তো আমার সময় নষ্ট করে। এখন সময়ের দাম বড্ড বেড়ে গেছে -৫০ দিন, তিন মাস, ছমাস... কতটা কালো টাকা সাদা হচ্ছে তার ওপর বদলে বদলে যাচ্ছে।
এই বলে কাক্কেশ্বর মন দিয়ে আবার কালো-সাদা হিসেব কষতে লাগল আর আমি হাতে দুটো বাতিল থুড়ি না ভাঙাতে পারা দুহাজার টাকার নোট নিয়ে আকাশপাতাল ভেবেই যেতে থাকলাম কোথায় ভাঙাব?





আন্তর্জালে বাংলা ভ্রমণপত্রিকা ও ব্লগ

২৫ ও ২৬ নভেম্বর, ২০১৬ 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা' শীর্ষক দুই দিন ব্যাপি জাতীয় আলোচনাচক্রে ভাষা ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন এমন গুণী মানুষজনের কাছ থেকে ভাষা, ভাষাবিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি কীভাবে পাশাপাশি কাজ করতে পারে এবং করছে এ বিষয়ে নানান বিদগ্ধ আলোচনায় সমৃদ্ধ হলাম।
এই আলোচনাচক্রের প্রথম দিনের একটি অধিবেশনে আমরা যারা প্রয়োগক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করছি তাঁদের কয়েকজনের মধ্যে একেবারেই প্রযুক্তি বিষয়ে অজ্ঞ, কেবলমাত্র ভ্রমণসাহিত্যে উৎসাহী হয়েও 'আন্তর্জালে বাংলা ভ্রমণপত্রিকা ও ব্লগ' শিরোনামের একটি উপস্থাপনা রাখতে পেরে আমি আনন্দিত।

আলোচনাচক্রটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি আয়োগের অর্থানুকূল্যে আয়োজন করেছিল সরসুনা কলেজের বাংলা বিভাগ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ।