বড় হয়ে
রোজ রোজ অসুখ করলে কিছুতেই আর ছোটবেলার মতো ‘অমল’হওয়া যায় না। কিছুতেই ভাবা যায় না ‘দইওলা’র মতো কেউ কী নিদেনপক্ষে ‘ঠাকুরদাদা’এসে গল্প
শোনাবে। রাজার কাছে চিঠি লিখলে যে উত্তর মিলবে না কেমন তা স্পষ্ট জানা থাকে।
ছোটবেলায় এই সব না ঘটাগুলো ভুলিয়ে দেয় মা,গল্পে,গানে। আর ঠিক এই জন্যই,এই জন্যেই অসুখ করলে আর যাইহোক বড় হতে নেই। কিম্বা বড় হয়ে
অসুখ করতে। মায়েদেরও তাতে বয়স বেড়ে যায় যে। কিছুতেই আর ছোটবেলার মা মেলে না।
তবু
কারোর কারোর রোজ অসুখ করে। এমন কী না চাইলেও বড় হয়ে গেলেও।
ভারী
যত্ন পেলেও কারোর কারোর তাও তখনও দইওলা,ঠাকুরদাদা,সুধা,রাজার চিঠি কিম্বা ছোটবেলার মায়ের জন্য মনকেমন করে। বড় হয়ে
গেলেও।
সমস্ত
ক্লান্তিগুলো একদিন জড়ো করে রেখে আসব তোমার উঠোনের একপাশে। সমস্ত বেদনাগুলো তোমার
আলনায় এলোমেলো হয়ে থাকবে। সব বিষাদ উপুড় হয়ে পড়ে থাকবে ওই বিছানায়। আর তোমার জানলার
নীচে যেখানে রঙ্গন গাছটিতে লাল ফুল ফুটেছে, ওইখানে, ঠিক ওইখানটিতে রেখে আসব আদর।
রোজকার
মতো বাড়ি ফিরে এঘর-ওঘর খুঁজতে খুঁজতে কোথাও না পেয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালে দেখবে
দিগন্তরেখায় নীল-রাঙা মেঘে আঁচলের প্রান্তখানি আঁকা হয়ে আছে।