Thursday, August 4, 2016

আমাদের ছুটি - সম্পাদকীয়

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে সুন্দরবনকে ধ্বংস করা চলবে না এমন একটা জোরালো আবেদন বেশ কিছুদিন ধরেই উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওদিকে ভারত-বাংলাদেশ উভয় পক্ষের সরকারের তরফ থেকে প্রকল্পটিকে দুই দেশের মৈত্রী সূচক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে! বিষয়টি নিয়ে শ্রী দেবাশিস সেনগুপ্তের একটি লেখা পড়ে আর 'আমাদের ছুটি'-র নিয়মিত লেখক তুহিন ডি খোকনের অনুরোধে সম্পাদকীয়তে এই প্রসঙ্গে দু-একটি কথা বলি।

রামপাল জায়গাটি বাংলাদেশের খুলনা জেলায়। সুন্দরবনের যে অংশটি বাংলাদেশে রয়েছে তার থেকে মাত্র ১৪ কিমি দূরে। তার মধ্যে আবার মাঝের ১০ কিমি 'বাফার জোন' মানে স্বল্প ঘনত্বের জঙ্গল। মোদ্দা কথা যা দাঁড়াচ্ছে, জঙ্গলের এলাকা থেকে মোটামুটি ৪ কিমি দূরেই তৈরি হচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরির ক্ষমতাসম্পন্ন বাংলাদেশের বৃহত্তম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। প্রকল্পটি ভারত সরকারের তরফে এনটিপিসি এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎমন্ত্রক বিপিডিবি-র যৌথ উদ্যোগ। দুপক্ষই এতে সমপরিমাণ অর্থ লগ্নি করেছে। উপরন্তু, নির্মাণের পর আগামী দশ বছর ধরে প্ল্যান্টটির দেখভালের দায়িত্বও এনটিপিসি-র ওপরেই। কয়লাচালিত হওয়ায় নিয়মিতই বর্জ্য পদার্থ হিসেবে নির্গত হবে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ও নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড। বিপুল পরিমাণ এই কয়লাও আসবে সুন্দরবনের জলপথেই সারা বছর ধরে বহুসংখ্যক মালবাহী জাহাজে। একনাগাড়ে উড়ে আসা কয়লার গুঁড়ো, সালফারের পুরু আস্তরণ ঢেকে দেবে জল-জঙ্গল। যদিও বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রক এবং এনটিপিসি পরিবেশ দূষণের এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে! ঘোষণা করা হয়েছে এই প্রকল্প হবেই।

এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল বেশ কয়েক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গেও সুন্দরবন অঞ্চলে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল। তখনই পরিবেশ সচেতন বিভিন্ন মহল থেকে জোর আপত্তি ওঠায় ব্যাপারটি ধামাচাপা পড়ে। পরবর্তীতে কাঁথির কাছে হরিপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর জোরালো প্রস্তাব এলেও সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিবাদকে মর্যাদা দিয়ে রাজ্যসরকার সম্প্রতি সেটি নাকচ করেছে।

কন্যার পরিবেশবিজ্ঞানের পাঠ্য বই-এ দুরকমের ইকোলজি চর্চার কথা পড়েছিলাম শ্যালো ইকোলজি আর ডিপ ইকোলজি। খুব ছোট্ট করে বলতে গেলে পরিবেশের উপর সামগ্রিক প্রভাবের কথা খেয়াল না করে শুধু মানবসমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করা হল শ্যালো ইকোলজি চর্চা আর পরিবেশের কোনও রকম রদবদল ঘটানোর আগে তাতে জীবজগতের সুদূরপ্রসারী কী ফলাফল হতে পারে সেই ভাবনা হল ডিপ ইকোলজি-র দর্শন। আর এসব লিখতে লিখতে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়ে কেবল কানে ভাসছিল শ্রাবণী ব্যানার্জির সুন্দরবন দর্শন লেখার শেষে লেখিকার বাবার কথাটি, মনে রাখিস পৃথিবীটা শুধুমাত্র মানুষের জন্য নয়।
www.amaderchhuti.com

Wednesday, August 3, 2016

ওয়ান্স আপন আ টাইম

একটা একটা করে কবিতার পাতা ভাসিয়ে দিচ্ছিলাম জলে। শব্দ-অক্ষর-বর্ণমালা মুছতে মুছতে ভেসে চলল কোন অতীতে। শব্দরঙা কাব্যবালিকা যেখানে অনন্তকাল দুহাত পেতে বসেছিল। সে অনেকদিন আগের কথা। তখন বৃষ্টিরা কথা বলত রিমঝিমিয়ে।

এরে ভিখারি সাজায়ে

দুহাত পেতে দাঁড়িয়ে রইলাম আজীবন। আর অঞ্জলিভরা বৃষ্টির ছাঁট কখন যেন নদী পেরিয়ে সাগরে পৌঁছল!

Tuesday, August 2, 2016

উতলধারা বাদল ঝরে...

ছোটবেলায় এমন সকাল থেকে বৃষ্টি চললে হাতের কাজ সেরে অথবা হাতের কাজ ফেলে মা হারমোনিয়াম টেনে নিয়ে বসে একের পর এক বর্ষার গান গাইতো। অনেকদিনই আমিও মায়ের সঙ্গে বসে পড়তাম। হারমোনিয়াম বাজানো আসেনা। তাই তানপুরা বেঁধে আমায় দিতো। অনেকসময় শুধু তানপুরা বাজিয়েও গান চলতো।

উতলধারা বাদল ঝরে এই গানটা প্রায় দিনই গাইতো। ভীষণ গভীরভাবে। আর তারপরেই একেকদিন মজা করে বলত, কী হাল বোঝ বঁধুর! ...ওগো বঁধু দিনের শেষে এলে তুমি কেমন বেশে... মানে সারাদিন ভিজে ন্যাতা হয়ে কাদা পায়ে গা বেয়ে টপটপ করে জল ঝরছে...। আমি মনে মনে ভাবলাম তারপর যদি গোটা কতক হ্যাঁচ্চো, হ্যাঁচ্চো করে তো একেবারে পোয়া বারো।

কী গান ছিল, আর কী গান হল! আমরা দুজন বেশ খানিকক্ষণ প্রবল হেসে নিয়ে ফের গান ধরি আজ যেমন করে গাইছে আকাশ তেমনি করে গাও গো..., আর অমনি বাইরে আবার বৃষ্টি পড়তে শুরু করে।

Sunday, July 10, 2016

জীবন থেকে কবিতাগুলো ঝরে পড়তে থাকে কেবলই...

Friday, July 8, 2016

কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে...

আমার বুকের ভেতর নি:শব্দে প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয় সে। সেই আলোয় ঝরে পড়ে গভীর আত্মাভিমান, খসে যায় স্বার্থপরতার আলগা আবরণখানি। চেনা মানুষকে নতুন করে চিনতে পারি আবার।